১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

জুড়ীতে মসজিদের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৩

ফেইসবুক শেয়ার করুন

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে মসজিদের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জলিল মিয়া (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।

উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের চাটেরা গ্রামের দক্ষিণ চাটেরা নতুন মসজিদ এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- জলিল মিয়ার ছেলে আব্দুল কাদির রনি (২৬), সাহিদ (২৪), জলিল মিয়ার আত্মীয় আলীপুর গ্রামের তাহির আলীর ছেলে সাহেদ আহমদ (১৮), অপর পক্ষে ছিনু মিয়ার ছেলে তারেকুল ইসলাম (৩৫), মজহর আলীর ছেলে ইয়াছিন (৪৫), ইয়াছিনের ছেলে সৌরভ আহমেদ (১০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুড়ী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) অঞ্জন কুমার দাস।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জায়ফরনগর ইউনিয়নের চাটেরা গ্রামের দক্ষিণ চাটেরা নতুন মসজিদের টাকা নিয়ে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় একই গ্রামের ইয়াছিন মিয়া ও তারা মিয়ার সাথে কথা কাটাকাটি হয় জলিল মিয়ার। ইফতারের পর ইয়াছিন মিয়া ও তারা মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন জলিল মিয়ার বাড়িতে হামলা করেন। এতে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই জলিল মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় তার ছেলে কাদির মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন ও নিহত জলিল মিয়ার ফুফুতো বোন রিনা বেগম বলেন, ‘জায়ফরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ চাটেরা গ্রামে ৪-৫ বছর আগে একটি মসজিদ স্থাপন করা হয়। মৃত মজহর আলীর মেয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী জোসনা বেগম মসজিদের নামে ভূমি দান করেন। জোসনা বেগমরা ৮ বোন। তাদের কোন ভাই না থাকায় মামাতো ভাই জলিল মিয়া তাদের সম্পদ দেখাশোনা করেন। তিনি মসজিদের মুতাওয়াল্লিও।

‘জোসনা বেগমের চাচাতো বোনের ছেলে তারা মিয়া মসজিদের ক্যাশিয়ার। অনেকদিন থেকে মজহর আলীর জমি নিয়ে জলিল মিয়া ও তারা মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল। কিছু দিন পূর্বে উপজেলা চেয়ারম্যান মসজিদে বিশ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) জুমার সময় জলিল মিয়া উক্ত টাকার হিসাব চান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।’

‘সন্ধ্যায় ইফতার শেষে মসজিদে নামাজ পড়ে নিজ বাড়িতে যেতে চাইলে তারা মিয়া ও ইয়াছিনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক জলিল মিয়ার ওপর হামলা চালায়। জলিল মিয়া প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে বাড়িতে যেতে চাইলে বাড়ির উঠানে গিয়ে হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। সাথে সাথে জলিল মিয়ার ছেলেরাও পাল্টা হামলা চালালে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।’

জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. অসিত দেবনাথ বলেন, ‘নিহতের মাথায় গুরুতর জখম রয়েছে। হাসপাতালে ৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।তাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।’

জুড়ী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) অঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে পুলিশ হেফাজতে ইয়াছিন মিয়া ও তার ছেলে কামরুলকে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হবে।’

563 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন