,

রাজনগরে স্ত্রীকে হত্যা করে উঠানে মাটিচাপা, জিডি করতে এসে ধরা স্বামী

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬

ফেইসবুকে শেয়ার করুন

রাজনগর সংবাদদাতা :

মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর বাড়ির উঠানে প্রায় আট ফুট গভীরে মরদেহ পুঁতে রেখে নিখোঁজের নাটক সাজানোর অভিযোগে স্বামী আলমগীর আলী (৪০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার প্রায় ১৫ দিন পর বাড়ির উঠান খুঁড়ে জাহেদা বেগম (৩৮) নামে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত জাহেদা বেগম উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তিনি একই ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকার বাসিন্দা আলমগীর আলীর স্ত্রী। তাদের একটি ছয় বছর বয়সী ছেলে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন রাতে পারিবারিক কলহের জেরে আলমগীর তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে গভীর রাতে বসতবাড়ির উঠানের সামনে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে জাহেদা বেগমের কোনো খোঁজ না পেয়ে তার বাবা আব্দুল হান্নান গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তের দায়িত্ব পান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অরূপ সরকার।

তদন্তের একপর্যায়ে আলমগীরের বক্তব্য ও আচরণে অসংগতি ধরা পড়লে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বাড়ির উঠান খুঁড়ে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় আলমগীর আলীর পাশাপাশি জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান বলেন, “আমার মেয়ে সৌদি আরবে চলে গেছে বলে আলমগীর আমাদের জানায়। কোনো প্রমাণ দেখাতে না পারায় সন্দেহ হলে আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পরে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, “জিডির তদন্ত করতে গিয়ে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুরো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।”

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে।”

com”>DAILYSYLHET.COM | SYLHET NEWS | BANGLA NEWS.


ফেইসবুকে শেয়ার করুন
3 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন