প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬
বড়লেখা প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর চা বাগানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সরকারি লিজকৃত টিলা ভূমির গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন প্রায় ৭০০ ঘনফুট কাটা কাঠ জব্দ করেছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জানা গেছে, গত দুই মাসে শাহবাজপুর চা বাগানের দক্ষিণাঞ্চলের বৈকুণ্ঠনগর, বিপিন টিলা, আনডরসহ বিভিন্ন টিলা ও পাহাড়ি এলাকায় কয়েকশ গাছ কেটে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাটা গাছের বড় বড় গুঁড়ি হাতি দিয়ে নিচে নামিয়ে ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়েছে। ভোরবেলায় এসব কাঠ বিভিন্ন স-মিলে সরিয়ে নেওয়া হতো বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে বড়লেখা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চা বাগানে অভিযান চালান। এ সময় বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ দেখতে পান তারা। তবে বাগান কর্তৃপক্ষ বন বিভাগ, বাংলাদেশ চা বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ।
পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া, বড়লেখা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) রেজাউল মৃধা এবং ফরেস্ট রেঞ্জার নীলোৎপল সরকার বাগান কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রথম দফায় প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাটা কাঠ জব্দ করে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।
রোববার (৫ জুলাই) পুনরায় অভিযান চালিয়ে বাগানের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও প্রায় ২০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়। এ সময় বন বিভাগের কর্মকর্তারা ১৩০টি কাটা গাছের গুঁড়িও শনাক্ত করেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত পরিমাপ (মেজারমেন্ট) শেষে সঠিক হিসাব নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বাগান কর্তৃপক্ষ। বন বিভাগকে সব কাটা গাছের পরিমাপ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বড়লেখা বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জার নীলোৎপল সরকার বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গাছগুলো কাটা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়েছে। চূড়ান্ত পরিমাপ শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
com”>DAILYSYLHET.COM | SYLHET NEWS | BANGLA NEWS.