প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬
ডেস্ক সংবাদঃঃ ফ্রান্সে বসবাসরত কুলাউড়া উপজেলার প্রবাসীদের অংশগ্রহণে কুলাউড়া উপজেলা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের উদ্যোগে প্যারিসের অদূরে ঐতিহ্যবাহী লা কর্নভ (La Courneuve) পার্কে দিনব্যাপী বনভোজন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত অর্ধশতাধিক পরিবারের নারী, পুরুষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মিলনের আবহ।
দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, র্যাফেল ড্র এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। কুলাউড়াবাসীর পাশাপাশি ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কুলাউড়া উপজেলা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের সভাপতি মোহাম্মাদ আলী সিদ্দিকী মতিন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন খাঁন জিলু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আতিকুর রহমান আতিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাব্বির আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল হান্নান কুটি, মিজানুর রহমান, খায়রুল আমীন খসরু, সামসুজ্জামান জালাল এবং জসিম মিয়া। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি নেতা এম. এ. বার তাহের, সালেহ আহমেদ চৌধুরী, পারভেজ রশিদ খাঁন, লুৎফুর রহমান শাহানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নুল ইসলাম।
দিনব্যাপী আয়োজনে পুরুষদের জন্য ফুটবল ও হা-ডু-ডু, মহিলাদের জন্য বালিশ খেলা ও চেয়ার প্রতিযোগিতা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, দৌড়, মিনি গোলসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া আকর্ষণীয় ১০টি পুরস্কার সম্বলিত র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠান সফল করতে বিশেষ অবদান রাখায় সংগঠনের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বনভোজনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি পরিবারকে সম্মাননা স্মারক এবং শিশু-কিশোরদের হাতে বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাসরত কুলাউড়াবাসীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।