১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

হৃদয় কতোটা প্রসারিত হলে নিঃস্বার্থ আর মানবিক হওয়া যায়?

আপডেট: জুন ৯, ২০২০

ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনি চৌধুরীঃ অপ্সরা দেব পড়শী মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী৷ শ্রীমঙ্গল কাঁচা বাজারের ডিম বিক্রেতা পরিতোষ দেবের মেয়ে। গত এক বছরের উপবৃত্তি বাবদ সে ১২০০ টাকা পেয়েছে। গত (০৮ এপ্রিল) সে পুরো টাকাটাই করোনা-দূর্গত মানুষদের সহায়তা করার জন্য শ্রীমঙ্গল উপজেলা ত্রাণ তহবিলে প্রদান করেছে।শিক্ষার্থী অস্পরা সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয়ে গিয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তার সামান্যতম দান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে জমা দেয়ার অনুরোধ জানায়। সে তার প্রতিক্রিয়ায় জানায়, সে নিজের লেখাপড়ার জন্য টাকাটা কাজে লাগাতে পারতো। কিন্ত এ মুহূর্তে অসহায় মানুষদের সহায়তা করাটা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে বিধায় তার সামান্যতম অর্থ ত্রাণ তহবিলে প্রদান করে সে সন্তুটি লাভ করেছে।
এ করোনাকালে নিত্যদিন অনেক ইতিবাচক নেতিবাচক ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে দিনাতিপাত করা হচ্ছে৷ দায়িত্ব পালনকালীন হৃদয়ে নাড়া দেয়া গুটিকয়েক আশাব্যঞ্জক ঘটনার মধ্যে এটি নিশ্চিতভাবেই অন্যতম হয়ে থাকবে। একজন অন্যজনের বিপদে এগিয়ে আসা, পাশে দাঁড়ানো, সহমর্মিতা প্রকাশ করা, নিজের সুখের জন্য ব্যস্ত না হয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে চেষ্টা করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক। তাই কবি বলেছেন ‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি, এ জীবন মন সকলি দাও, তার মতো সুখ কোথাও কী আছে? আপনার কথা ভুলিয়া যাও’।
যখন আমরা নিজের স্বার্থপর স্বত্তাকে জয় করতে পারি, তখন আমাদের সব অন্ধকার আলোয় রুপান্তরিত হয়। এই অপ্সরারাই আমাদের আলো, এক বিন্দু পানিতে গোটা এক সাগর। তাই করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের সবার প্রার্থনা করা উচিৎ সৃষ্টিকর্তা আমাদের যোগ্য করো।

260 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন