৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, রবিবার

কুলাউড়ার ফানাই ছড়া খননসহ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী ইউএনও’র কাছে স্বারকলিপি

আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০১৯

ফেইসবুক শেয়ার করুন

ডেক্স রিপোর্ট: কুলাউড়া উপজেলার ফানাই ছড়া (নদী) খনন ও উভয় তীরের বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে কর্মধা ইউনিয়ন এলাকার জনসাধারণের নিজস্ব মালিকাধীন ভূমির বাড়িঘর,গাছ-বাঁশ বাগানসহ সকল স্থাপনা ও ফসলী ভূমি রক্ষার্থে বৃহস্পতিবার কুলাউড়া ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর কাছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা স্বারকলিপি প্রদান করেছে।
জানা যায় কুলাউড়া উপজেলাধীন কর্মধা ইউনিয়নের ষাড়েরগজ পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে ৪০ ফুট থেকে ৫০ ফুট প্রস্ত বিশিষ্ট ফানাই নদী কর্মধা ইউনিয়নের আছগরাবাদ চা বাগান, ফাঁড়ি বাগান,নলডরি,হোসনাবাদ,নূনা,মহিষমারা,বাবনিয়া,গুতুমপুর,হাসিমপুর,কুলাউড়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর,গুতগুতি,রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কবিরাজী,মুকুন্দপুর,একিদত্তপুর, বাগাজুরা,ভবানীপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রাহ্মনবাজার ও ভূকশিমইল ইউনিয়নের হাকালুকি হাওরে পতিত হয়েছে। উভয় তীরে জলসীমা পর্যন্ত ব্যক্তি মালিকাধীন জমি রয়েছে। ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কাকিছার থেকে শুরু হয়ে কর্মধা ইউনিয়নের নলডরি পর্যন্ত নদীর উভয় তীরে ঘনবসতি অসংখ্য বাড়ী-ঘর,কবরস্থান,মসজিদ,কাঁচা পাঁকা ও ইট সলিং রাস্তা,নদীতে কয়েকটি পাকা ব্রীজ কার্লভার্ট,বিদ্যুৎ লাইনের খুটি,গাছ বাগান,বাঁশ বাগান ও ফসলি জমি বিদ্যমান রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ফানাই ছড়া (নদী) খনন ও উভয় তীরের বাঁধ নির্মাণে ১১০ ফুট প্রস্থ বিরাট অংকের প্রকল্প গ্রহন করেছে। কিন্তু সরকারি সেটেলম্যান্টের ম্যাপ অনুযায়ী নদীর প্রস্থ ৫০ ফুট। নদী তীরে বসবাসকারী বেশীর ভাগ মানুষ অতি-দরিদ্র। এমতাবস্থায় সম্প্রতি ফানাই ছড়া খনন ও উভয় তীরে বাঁধ নিমাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও ম্যাপ ছাড়া কর্মধা ইউনিয়ন এলাকায় সীমানা নির্ধারণ করে লাল রং দেয়া খুটি বসানো হয়েছে। জলসীমা থেকে প্রায় ৪৫/৫০ ফুট দূরে খুঁটি বসিয়ে সীমানা নির্ধারণকারী লোকজন এক সপ্তাহের মধ্যে বসত বাড়িঘরসহ সকল স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। অথচ সেটেলম্যান্ট রেকর্ড অনুযায়ী ফানাই ছড়ার প্রস্থ ৫০র্ এবং তীরবর্তীসমূহ ভূমি ব্যক্তি মালিকাধীন বংশানুক্রমে জনসাধারণ বাড়িঘর তৈরি করে বসবাস,গাছ বাগান,বাঁশ বাগান ও ফসলী জমি ভোগ ব্যবহার এবং ছড়া তীরবর্তী ভূমি রেজিষ্ট্রি দলিলে ক্রয়-বিক্রয় করে আসছেন। উজান এলাকায় অপ্রয়োজনীয় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জনগণের কোন উপকার হবে না,বরং হাজার হাজার মানুষের ফানাই তীরের নিজস্ব ভূমিতে ঘনবসতি অসংখ্য কাঁচা-পাকা বসত বাড়িঘর,বাউন্ডারি ওয়াল,কবরস্থানসহ অনেক স্থাপনা,কাঁচা পাকা ও ইট সলিং রাস্তা এবং গাছ বাগান ও বাঁশ বাগান উজাড়সহ ফসলী জমি হাতছাড়া হয়ে অপূরণীয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাস্তুহারা হয়ে যাবে। সীমানা নির্ধারনী লাল খুঁটির আতঙ্কে এলাকার জনগন আহাজারি করছে।
স্বারকলিপিতে জনস্বার্থে কর্মধা ইউনিয়নের প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে তদন্তক্রমে হাজারো মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি,বাড়িঘর,গাছ বাগান,বাঁশ বাগানসহ স্থাপনা রক্ষাসহ অসংখ্য পরিবারকে বাস্তহারা হওয়ার কবল থেকে রক্ষাকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে কর্মধা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (অবঃ) মোঃ আব্দুল মালিক বৃহস্পতিবার ইউএনও’র কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেন।

596 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Frank Dinar