১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, রবিবার

শিরোনাম
কুলাউড়া শিশু একাডেমীর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত কুলাউড়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত মৌলভীবাজারে আওয়ামী তথ্য প্রযুক্তি লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কুলাউড়ার ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২১ ডাক্তারের যোগদান কুলাউড়ায় বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে আলোচনা সভা কুলাউড়া আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় ৩দিনের মধ্যে বিলবোর্ড অপসারনের সিদ্ধান্ত ঢাকাস্থ কুলাউড়া উপজেলা সমিতি ও প্লাটুন টুয়েলভ কুলাউড়ার আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা- পুরষ্কার বিতরনী ১৪ই ডিসেম্বর কুলাউড়ার ৫০ শয্যার হাসপাতালে ডাক্তারের সংখ্যা ২৪ জনে উন্নীত। নতুন নিয়োগে রোগীদের স্বস্থি মৌলভীবাজার জেলা তথ্য প্রযুক্তি লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন কুলাউড়ার হাবিব

গ্রেপ্তার হবার মতো পরিস্থিতিতে পরলে আপনার যা করনীয়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

ফেইসবুক শেয়ার করুন

শামীম আনোয়ার :: টিভির রিমোট চাপলে বা পত্রিকার পাতা ওল্টালে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কি অভিযোগে কতজন গ্রেপ্তার/এরেস্ট হয়েছেন তার অনুপুঙ্খ বর্ণনা দেখতে পাওয়া যায়। নিত্যদিনের বাস্তববতা বলে আমরা সাধারণত এসব খবরকে এড়িয়ে যাই বা গুরুত্ব সহকারে দেখি না। কিন্তু জানেন কি, দোষে- নির্দোষে এই গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়ে যেতে পারেন আপনিও। কে জানে, হয়ত আজ কিংবা কাল।

এরেস্ট কিভাবে করা হয়ঃ বদ্ধ কোন ঘরে হত্যা বা ধর্ষণে উদ্যত অপরাধী। আচমকা সদলবলে অস্ত্র উঁচিয়ে পুলিশ অফিসারের পদার্পণ- “হ্যান্ডস আপ! ইও আর আন্ডার এরেস্ট!!!”

যারা নাটক সিনেমা দেখেন, তাদের কাছে এ এক অতিপরিচিত দৃশ্য হলেও সব গ্রেপ্তারই যে এমন নাটকীয় ভঙ্গীতে হতে হবে, এমন কোন কথা নেই। বেশিরভাগ সময় পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বা আটক ব্যক্তির সাথে কৃত আচরনে বা কথায় তিনি নিজের গ্রেপ্তার হবার বিষয়টি বুঝে নেন। কখনো কখনো অপরাধ সংঘটিত হবার পর ‘পিও’ এর আশপাশ থেকে সন্দেহমূলকভাবে অনেককে আটক করা হয়ে থাকে। রয়েছে পলায়নপর অপরাধীকে পশ্চাদ্ধাবন করে গ্রেপ্তারের কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়াও। এসব ক্ষেত্রে দেহ স্পর্শের / শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রেপ্তার কার্যকর করা হয়।

আইন অনুযায়ী কোন অপরাধী বা অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তকে সরকারী হেফাজতে বা পুলিশ হেফাজতে বা আদালতের হেফাজতে নেওয়াটাই হল গ্রেফতার।[কাঃ বিঃ ৪৬ ধারা, পিআরবি ৩১৬ বিধি।]

কে কে এরেস্ট করতে পারেনঃ আমাদের অনেকেরই ধারনা শুধু পুলিশ, র‍্যাব, এবং বিভিন্ন বাহিনীর লোকেরাই কেবল এরেস্ট করার ক্ষমতার অধিকারী। এই ভাবনা থেকেই পুলিশ দেখলে, কখন আবার গ্রেপ্তার করে ফেলে, ভয়ে দূরেদূরে থাকেন। ভুলের রাজ্যে আছেন ভাই! আইনের পরিভাষায় শুধু পুলিশ/র‍্যাব নয়, গ্রেপ্তারের ক্ষমতা রয়েছে প্রতিটি নাগরিকেরই। অবাক হচ্ছেন? অবাক হবার কিছু নেই, হ্যা, গ্রেপ্তার আপনিও করতে পারবেন।।

দেখেন, আপনি কত বড় ক্ষমতার মালিক হয়ে বসে আছেন, যা কিনা এতদিন জানতেনই না!! তো, এখন কি রাস্তায় যেয়ে মানুষকে গণহারে গ্রেপ্তার করে নিজের ক্ষমতার প্রমাণ দেওয়া শুরু করবেন!!

“র‍্যাবের এএসপি শামীম আনোয়ার বলসে, আমার নাকি গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা আছে। কে কোথায় আছস, সাহস থাকলে সামনে আয়, আজ সবগুলারে চৌদ্দশিকের ভেতরে ঢুকাব”

বীরদর্পে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করার আগে জেনে নিন, আইন আপনাকে ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি সেই ক্ষমতার সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী, আপনি (বেসরকারি ব্যক্তি) শুধু দুইজন মানুষকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন। ভাবছেন, আজ কোন দুই শালাকে শায়েস্তা করা যায়? আরে ভাই, এত্ত ক্রেজি অয়েন না। আইনে ওই দুই ব্যক্তির পরিচয়ও কিন্তু দেওয়া আছে।

১) যদি কোন ব্যক্তি আপনার সামনে আমলযোগ্য ও জামিনের অযোগ্য কোন অপরাধ করে। যেমনঃ যদি দেখেন একজন ব্যক্তি আরেকজনের হাত-ঠ্যাং ভেঙে দিয়ে পালাচ্ছে, কোন কথা নেই, তার সামনে আঙ্গুল উচিয়ে সদর্পে ঘোষণা দিন, “ইও আর আন্ডার…”

২) কিংবা কোন ব্যক্তিকে যদি অপরাধী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাকে দিনেরাতে যেখানে পান, গ্রেপ্তার করতে পারবেন।

গ্রেপ্তার তো করলেন। পুলিশ গ্রেপ্তার করলে তো তাদের হাজতে নেয়, আপনার তো আর সেরকম হাজতটাজত নেই। তাহলে এখন আপনি আপনার আসামিকে কি করবেন। নিজ বাড়ির খাটের তলাকে হাজত ঘোষণা করে সেখানে আসামিকে বন্দী রাখবেন? নাহ, এখানেও আইনের বিধান! আইনে বলা আছে যে, গ্রেফতার করে বিলম্ব না করে পুলিশে খবর দিতে হবে অথবা থানায় নিয়ে যেতে হবে। আপনার ক্ষমতার দৌড় এখানেই শেষ। বাকি কাজ আবার সেই পুলিশেরই। দুঃখ! দুঃখ!!

এরেস্ট হবার মুখোমুখি হলে করনীয়ঃ গ্রেপ্তারের মুখে পড়লে অনেকের মধ্যেই ঘাবড়ে যাবার একটি প্রবণতা দেখা যায়। অনেকেই আবার নির্দোষ হবার পরও দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করেন, যা পুলিশ কর্মকর্তার নিকট আপনাকে দোষী প্রতীয়মান করা ব্যতীত অন্য কোন উপকারেই আসে না।

১. আপনি যদি কোন কগনিজেবল( ধর্তব্য) অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন বা কোন মামলায় আসামি / সাজাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, তাহলে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করার বদলে গ্রেপ্তার মেনে নিন এবং অভিজ্ঞ কোন আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন এবং তৎপরবর্তী আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করুন। এটাই আপনার জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে মনে করি।

২. যদি আপনি সন্দেহমূলক গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হন, তাহলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তার নিকট নিজের নাম, ঠিকানা ও পেশাসহ পরিচয় তুলে ধরুন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিজের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে পারেন। উপস্থিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে এই মর্মে নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন যে, আপনি এই অপরাধে জড়িত নন।

৩.পুলিশের হাতে আটক হওয়া মানেই এই নয় যে, আপনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনা ঘটার পর সন্দেহবশত অনেককে আটক করা হলেও থানায় নিয়ে যাবার পর যাচাইবাছাই প্রক্রিয়া সেরে নির্দোষ ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ সময় সেই প্রক্রিয়ায় সিনিয়র অফিসারগণ উপস্থিত থাকেন। তখন তাদের কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করুন।

সবচেয়ে বড় কথা, অপরাধে হোক আর নিরপরাধে হোক আপনি একটা বড় বিপদে পড়েছেন। “যে আপনার চৌদ্দগোষ্ঠীতে কোনদিন কেউ কোর্টকাছারির রাস্তা মাড়ায়নি, আজ সেই আপনার হাতে হাতকড়া পড়বে!!!” ভেবে কান্নাকাটি বা পুলিশের হাতেপায়ে ধরে অনুনয়বিনয় করার বদলে মাথা ঠাণ্ডা রেখে তথ্যপ্রমাণের মাধ্যমে, যুক্তির নিরিখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন।

আপনাদের সবার জন্য নিরন্তর শুভকামনা।

লেখক :: শামীম আনোয়ার
এএসপি, ৩৪ তম বিসিএস পুলিশ

479 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Frank Dinar