নাছির উদ্দিন চৌধুরী। হাওড়াঞ্চলের তুমুল জনপ্রিয় নেতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে লড়ছেন। বিএনপির সমসাময়িক প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের মধ্যে সব থেকে প্রবীণ এক প্রার্থী তিনি। তার জনপ্রিয়তার কাছে হার মানতে হয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলকেও। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী অগণিত প্রার্থীকে টপকিয়ে ‘ধানের শীষ’ জয় করে ভোটের মাঠে জয়ী হয়েছেন প্রবীণ এই নেতা। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের শিশির মনিরের সাথে ভোটের লড়াইটা ছিলো দৃশ্যমান।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১১টি। এর মধ্যে ৪১টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫৩৮ ভোট। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৮৩৮ ভোট। ৪১টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১৮৭৩২ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির তার ফেসবুকে নাছির চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেন ‘আমার আসনে বিজয়ী ধানের শীষের প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন।আপনকে ফুলের শুভেচ্ছf’।
জানা যায়, ছাত্রজীবনে সিলেট শহরে আইয়ূব খানকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করে পূর্ব পাকিস্তান পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী। পরে তাকে এমসি কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তখন তিনি সিলেট এমসি কলেজের ভিপি ছিলেন। এরপর তিনি ভর্তি হয়েছিলেন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেখানেও তিনি ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এর আগে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ভিপি ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখা নাছির চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেননি। সবসময় বলতেন ভাতা খাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। দেশ স্বাধীন করেছি, এই আমার বড় পাওয়া। কে তালিকাভুক্ত করল আর কে করল না তাতে আমার কিছু যায় আসে না। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে কোনোদিন চেষ্টাও করেননি নাছির চৌধুরী।
