২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

কামরানের জন্য কাঁদছে সিলেট

আপডেট: জুন ১৫, ২০২০

ফেইসবুক শেয়ার করুন

রোববার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে শুরু। এক-দেড় ঘণ্টার ভিতরে সাইক্লোনের মতো পুরো সিলেটে ছড়িয়ে পড়লো একটি মৃত্যুসংবাদ। ‘আমাদের প্রিয় কামরান’ আর নেই। দু:সংবাদটি দল-মত নির্বিশেষে সিলেটবাসীকে করলো বাকরুদ্ধ, অশ্রুসজল ও শোকে কাতর। করোনার ছোবলকে নিস্তেজ করে ধীরে ধীরে সুস্থ্য হয়ে উঠতে থাকা কামরান এভাবে চলে যাবেন, কেউ যেন ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারেননি।

সাদা পাঞ্জাবির উপর কালো মুজিব কোট, মাথায় সাদা টুপি আর চোখে চিকন ফ্রেমের চশমা পরা সদা হাস্যোজ্জ্বল বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন সিলেটবাসীর মহীরুহস্বরূপ। সিলেটে অসাম্প্রদায়ীক রাজনীতির এক অত্যুজ্জ্বল অংশ ছিলেন কামরান।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের জন্য কাঁদছে নগরবাসী। এ নগরের মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি সাথী ছিলেন। নিজে অসুস্থ হয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে অসহায় হয়ে পড়া মানুষের সাহায্যার্থে সবসময় পাশে ছিলেন কামরান।

এই দুর্দিনে তিনি করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন জেনেও অসহায় মানুষদের বাড়িতে নিজে খাদ্যসামগ্রী বহন করে নিয়ে গেছেন। অবশেষে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আজ সোমবার (১৫ জুন) ভোররাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা গেছেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ।

দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সিলেটবাসীর মনে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছিলেন যে ব্যক্তি- তিনি হচ্ছেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। মেয়র না থাকা অবস্থায়ও তিনি নগরবাসীর প্রতিটি সমস্যা-সম্ভাবনার ইস্যুতে তিনি পাশে থাকতেন। যখন যা প্রয়োজন করতেন। তাইতো তিনি সিলেটের মানুষের কাছে ‘মেয়র সাব’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের চলে যাওয়াতে শুধু নিজ দল আওয়ামী লীগই নয়, গোটা সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনেই যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা সহসাই পূরণ হবার নয় বলে মন্তব্য করছেন সিলেটের রাজনীতিবিদরা।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ দু:খ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ফেসবুকে লিখেছেন- ‘রাজনৈতিক অভিভাবক জনাব বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আমার রাজনীতি, পরিবার, পরিপার্শ্বিকতাসহ নানা প্রতিকূলতা ও সমস্যাসংকূল মুহূর্তে তিনিই ছিলেন সকল প্রেরণার বাতিঘর। আমাদের সকল দুঃসময়ে উনার কাছেই পেয়েছি আত্মবিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার শক্তি-সাহস ও সুক্ষ দিকনির্দেশনা।

অনেক মানবিক ও নেতৃত্বের সম্মোহনী গুণের অধিকারী জনাব বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন এতদঞ্চলের রাজনীতির এক বিস্তৃত মহীরুহ। আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক গুরু জনাব কামরান ছিলেন সিলেটের সর্বস্থরের রাজনৈতিক মহলে একজন আস্থাভাজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর সমস্ত চিন্তা-চেতনা-সংগ্রাম ও স্বপ্ন ছিলো সিলেটের আপামর জনসাধারনের সামগ্রিক কল্যাণ ও এই নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
আশি’র দশক থেকে শত ঘাত-প্রতিঘাত-প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে এই পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনে যে সকল ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব সিলেট আওয়ামীলীগের ইতিহাসে চিরঅক্ষয় হয়ে থাকবেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান নিঃসন্দেহে তাঁদের মাঝে অন্যতম। তাঁর মৃত্যুতে দেশ তথা সিলেট এক বিরল রাজনীতিককে হারালো।’

এভাবে শুধু আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দই নন, সিলেটে সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরই প্রিয়ভাজন ছিলেন জনবান্ধব ও জননন্দিত ব্যক্তিত্ব বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এমন ব্যক্তির চলে যাওয়াতে বড় এক অভিভাবককে হারালেন সিলেটবাসী।

170 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন