জুলাই ২৮, ২০১৫ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

হাসপাতালের সাততলার ওপর থেকে ফেলে নবজাতককে হত্যা, হত্যার কথা স্বীকার করলেন বাবা!


কুলাউড়া সংবাদ ,মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০১৫।

হাসপাতালের সাততলার ওপর থেকে ফেলে নবজাতককে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বাবা ফজল হক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে ফজলের পরিবারের অভিযোগ, ফজলকে নির্যাতন করে নানা ভয়ভীতির মুখে পুলিশ এই স্বীকারোক্তি আদায় করেছে।

এই শিশুটি চলতি মাসের ৬ তারিখ থেকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। গতকাল সোমবার ভোরের দিকে শিশুটি চুরি হয়েছে বলে তার এক আত্মীয় জবেদা বেগম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর হাসপাতালের সব প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দিয়ে নবজাতকের খোঁজ করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাশের ভবনের চারতলায় ছাদে তাকে পাওয়া যায়। এরপর নবজাতককে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোববার রাতে নবজাতকের সঙ্গে ওই কেবিনে ছিলেন বাবা ফজল হক ও বাকপ্রতিবন্ধী মা নুরুন্নাহার এবং নুরুন্নাহারের ফুফু জবেদা বেগম।

ঘটনার পর পরই পুলিশ শিশুটির বাবা ও জবেদা বেগমকে আটক করে। পরে আজ মঙ্গলবার নুরুন্নাহারের বাবা নুরুল ইসলাম সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জামাতার বিরুদ্ধে নবজাতককে হত্যার অভিযোগ এনেছেন। মামলা দায়েরের পর ফজল হককে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে জবেদাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার ভোর চারটার দিকে ফজল নবজাতককে কেবিনের জানালা দিয়ে নিচে ছুড়ে ফেলে দেন। এর পর ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চার দিন বয়সের ওই নবজাতকে গত ৬ জুলাই তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে টানা ১৫ দিন চিকিৎসার পর গত বুধবার তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এর পর থেকে ওই নবজাতক ১১ তলা ভবনের সাত তলার ৭১৬ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিল।

ফজলের আত্মীয় ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফজল মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের চাঁনমিয়ার ছেলে। অভাবের কারণে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস পেয়ে বছর তিনেক আগে সাভারের জামসিং এলাকার নুরুল ইসলামের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে নুরুন্নাহার আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ফজল স্ত্রীর সঙ্গে শ্বশুর বাড়িতে থাকলেও শ্বশুরের টাকায় কেনা ট্রাকের আয় থেকে নিজের সংসার চালিয়ে তাঁর অসুস্থ ভাই ও মাকে টাকা পাঠাতেন। এসব কারণে সব সময় তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগতেন।

তাঁরা জানান, দ্বিতীয় সন্তানের পিতা হওয়ার পর ফজল আরও ভেঙে পড়েন। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর রক্তে জীবাণুর সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার মাত্র চার দিন বয়সে তাকে (নবজাতক) ভর্তি করতে হয় হাসপাতালে। হাসপাতালে ২১ দিনের চিকিৎসায় খরচ দাঁড়ায় আড়াই লাখ টাকারও বেশি। এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাতে শ্বশুর নুরুল ইসলাম তাঁকে ট্রাক বিক্রির পরামর্শ দেন। এ নিয়ে শ্বশুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয়। এক পর্যায়ে নুরুল ইসলাম জমি বিক্রি করে ধাপে ধাপে চিকিৎসা খরচ মেটাচ্ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান দাবি করেন ফজল তাঁকে বলেছেন, জন্ম নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তানের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও নবজাতকের দেড় কেজি ওজন কমে যায়। ফজলের ধারণা জন্মে তাঁর দ্বিতীয় ছেলে প্রতিবন্ধী হবে। তাঁর পরিচিতজনসহ স্বজনেরাও তাঁকে এমনই ধারণা দেন। এসব কারণে মানসিক অবসাদ থেকে তিনি ছেলেকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। নুরুল ইসলাম তাঁর জামাতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অনেকটা এ রকমই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

থানা সূত্র জানায়, মামলায় নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন-নবজাতক শিশু জীবিত থাকলে প্রতিবন্ধী হবে এবং এর চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা খরচ হবে এমন ধারণা থেকে তাঁর জামাতা নবজাতক ছেলেকে সাত তলা থেকে ফেলে হত্যা করেন। মামলা দায়েরের আগে ফজল হক তাঁর কাছে এসব কথা বলেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ফজলের মা ফজিলা বেগম বলেন, তাঁর ছেলে ওই নবজাতকে হত্যা করেনি। অন্য কেউ এ কাজ করে তাঁর ছেলেকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

142 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ