ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬ ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ

হবিগঞ্জে ৪ শিশু খুন: গ্রেপ্তার ২


জেলার বাহুবলে নিখোঁজ হওয়ার ৫ দিন পর বালির নিচ থেকে ৪ শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশীরা জড়িত বলে মনে করছে শিশুদের পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটেকি গ্রামের ঈসাবিল এলাকায় বালির নিচ থেকে নিখোঁজ শিশুদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

kids_murder

খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিলেটের ডিআইজি মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি চার শিশুর হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিতে সহায়তাকারীকে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন।

ডিআইজি মিজানুর বলেন, ‘যে ব্যক্তি এ হত্যা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারবে, বা হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিতে সহায়তা করবে তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। সেই সঙ্গে সহায়তাকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।’

নিহতরা হচ্ছে- বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে স্থানীয় স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাত ভাই আব্দুল আজিজের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাজেল মিয়া (১০), আবদাল মিয়ার ছেলে প্রথম শ্রেণির ছাত্র মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)।

নিহত শিশু মনির মিয়ার বাবা আবদাল মিয়া তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘মাস খানেক আগে গাছ কাটা নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে বিরোধ ও মারামারি হয়। আমার মনে হয় শত্রুতা করে আব্দুল হাই তার ছেলেসহ অপর তিন শিশুকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করে।

নিহত শিশু শুভর বাবা ওয়াহিদ মিয়ার অভিযোগ, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন বাহুবল থানায় ডায়েরি করেন তিনি। কিন্তু পুলিশ ওই ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। তার অভিযোগ, পুলিশ যদি গুরুত্ব দিয়ে শিশুদের খোঁজ করত তাহলে তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হত।

বালির নিচে শিশুর হাত

বালির নিচে শিশুর হাত

স্থানীয়রা জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শুভ, তাজেল, মনির ও ইসমাইল মিলে বাড়ির পাশের মাঠে খেলাধুলা করতে যায়। কিন্তু বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে এলেও তারা আর বাসায় ফেরেনি। তাদের স্বজনরা আশপাশে খোঁজাখুজি করে কোথাও তাদের পায়নি। পরদিন শনিবার দুপুরে শুভর বাবা ওয়াহিদ মিয়া বাহুবল মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর থেকে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান, হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (দক্ষিণ সার্কেল) মাসুদুর রহমান মনির ও হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের ওসি মো. মুক্তাদির হোসেন বাহুবল যান এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে দিনভর সভা করেন।

পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানদাতাকে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেয় পুলিশ। সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের বরাত দিয়ে ওই পুরস্কারের ঘোষণাটি মাইকে উপজেলাসহ জেলার সব জায়গায় প্রচার করা হয়।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নিখোঁজ পরিবারের সাথে দেখা করেন এবং তাদের সন্ত্বনা দেন জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। পরে তিনি শিশুদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য বাহুবল থানাকে নির্দেশ দেন।

নিখোজের ৫ দিন পর বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় বালু উত্তোলনকাররী শ্রমিকরা উপজেলার সুন্দ্রাটেকি গ্রামের ঈসাবিল এলাকায় যান। সেখানে বালু উত্তোলনের এক পর্যায়ে বালি চাপা একটি হাত দেখে তারা পুলিশকে খবর দেয়। খরব পেয়ে বাহুবল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় সেখান থেকে কিছু আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।

 


error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ