সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৫ ১০:২৭ অপরাহ্ণ

সুলতান-শাহীনের অন্যরকম ঈদ


ইমাদ উদ দীন:: তারা দুজনই জেলার আলোচিত নেতা। বাড়ি একই উপজেলায়। একজনের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দপুরে অন্যজনের কাদিপুর ইউনিয়নের আমতইলে। দুজনই সাবেক এমপি। নিজ এলাকায় তাদের জয়প্রিয়তা আকাশচুম্বী। দুজনেরই আলাদা আলাদা রাজনৈতিক পরিচিতি। একজন বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সহচর আওয়ামী লীনিবেদিতপ্রাণ কর্মী আর অন্যজন জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কর্মী। নিজ এলাকার নিজ দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় এই দুই ব্যক্তির রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। একজন স্কুলজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়ার পর হয়েছেন এই ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
সর্বদলীয় ও সাধারণ ছাত্রদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ডাকসুর ভিপি। হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকও। অপরজন কলেজে অধ্যয়নকালে জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে পড়াশোনার জন্য জার্মানি হয়ে পাড়ি জমান নিউ ইয়র্কে। কর্মজীবনে পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতাকে। নিউ ইয়র্কে বের করেন সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা পত্রিকা সাপ্তাহিক ঠিকানা ও দর্পণ। নিউ ইয়র্ক থেকে সাংবাদিকতা ছেড়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৩ সালে দেশে এসে যুক্ত হন বিএনপির রাজনীতিতে। কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দুজনই মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া-কমলগঞ্জ আংশিক) সংসদীয় আসনের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য। বিগত ওয়ান ইলেভেনের তকমা লাগিয়ে দলীয় রাজনীতি থেকে কোনঠাঁসা করে রাখা হয় তাদের। দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে রাখা হলেও নিজ এলাকায় তাদের নিজেদের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন এখন। বিগত দিনে সকল দলের অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনে একবার করে একে অপরকে হারিয়ে এমপিও হয়েছেন। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের রাজনৈতিক  সিডরে সব পরিবর্তন হয়ে যায়। তারা দুজনই দলে তাদের পদ-পদবি হারান। তার পরও থেমে থাকেনি তাদের রাজনীতি। নিজ এলাকাসহ দেশের নানা স্থানের রাজনৈতিক শিষ্য, ভক্ত ও শোভাকাঙ্ক্ষীদের ধরে রেখেছেন নিজ যোগ্যতায় আর আন্তরিক ভালবাসায়। স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে তাদের প্রয়োজন এখনও যে ফুরিয়ে যায়নি সেটা বিগত দিনগুলোর মত প্রমাণিত হলো এবারের ঈদে। ঈদের দিন (শুক্রবার) রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের ঢল নেমেছিল এই দুই নেতার বাসা-বাড়িতে। এই দুই জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি, সাবেক এমপি জাতীয় নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। অপরজন ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান  সাবেক এমপি এমএম শাহীন। ঈদের দিন (শুক্রবার) গভীর রাত পর্যন্ত তাদের বাড়িতে নেতাকর্মী, রাজনৈতিক শিষ্য আর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মৌলভীবাজার জেলার আলোচিত এই দুই নেতা। কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাড়িতে ঈদ উৎযাপন করেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, নিজ এলাকাসহ সিলেট বিভাগের তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের জনপ্রিয় এ নেতা। ঈদের ৩ দিন আগ থেকেই সুলতান মনসুর ঢাকা থেকে নিজ গ্রামের বাড়িতে আসেন। তিনি মৌলভীবাজারসদর, কুলাউড়া , জুড়ী, বড়লেখা ও কমলগঞ্জ উপজেলায় দলীয় কর্মী, ভক্ত ও শোভাকাঙ্ক্ষীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। সদ্য প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলী ও জুড়ী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম আসুক মিয়া ও তার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোহাইমীন সালেহসহ জেলার সবকটি উপজেলার দলের মরহুম নেতাকর্মীদের কবর জিয়ারত করেন। এবং এ সময় ওই এলাকার অসুস্থ নেতাকর্মীদেরও খোঁজখবর নেন। ঈদের দিন দুপুর হতে মৌলভীবাজার জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন উপজেলার  নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের ঢল নামে তার বাড়িতে। তার বাড়ির দুই পাশে গাড়ির দীর্ঘ লাইন আর সারিবদ্ধভাবে নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে তার স্বঃতস্ফূর্ত শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্য উপস্থিত সবাকে আকৃষ্ট করে। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতে তা রুপ নেয় নেতাকর্মীদের মিলন মেলায়। রাত ১১টায় থেকে তার এক ভক্ত ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল ইসলামের অনুরোধ ও আয়োজনে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাউল গান ও লোকসংগীতের মনোমু্‌গ্ধকর গান পরিবেশন করেন জেলার জনপ্রিয় বাউল শিল্পী গীতিকার শাহ উস্তার উদ্দিন আহমদ ও কণ্ঠশিল্পী সন্তোষ দাস শান্ত ও তাদের দল। রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত চলে এ মিলনমেলা। এসময় উপস্থিত সকলের উদ্দেশে সুলতান মনসুর বলেন। আমি রাজনীতি করেছি আপনাদের কল্যাণের জন্য। আপনারাই হলেন আমার চলার পথের পাথেয়। মানুষের জন্য কাজ করলে যে মানুষের ভালবাসা পাওয়া যায় এটাই আপনাদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে। জনগণই এদেশের ক্ষমতার মূল উৎস- আমার এই বিশ্বাস আজ আপনারা আরও বাড়িয়ে দিলেন। তিনি দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন কোন ধরেন ষড়যন্ত্র আমাকে জনগণের কল্যাণের রাজনীতি থেকে দূরে সরাতে পারবে না। আপনারাই আমার মূলশক্তি আর রাজনীতির প্রেরণা।
অপরদিকে ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি এমএম শাহীন ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন কুলাউড়া শহরের গোশাগোলস্থ তার নিজ বাসায়। গত ৫ই জানুয়ারি সরকার পতনের আন্দোলনে তার নেতৃত্বে কুলাউড়া শহরে একটি মিছিল বের হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ওই দিন সাবেক এমপি এমএম শাহীনের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ মিছিলের শেষ পর্যায়ে কোন উসকানি ছাড়াই পেছন দিক থেকে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করে। সে সময় পুলিশের লাঠিচার্জে সাবেক এমপি শাহীনসহ ১০-১২ জন নেতাকর্মী আহত হন। নেতাকর্মীদের অভিযোগ পুলিশ উল্টো মামলা দেয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
এক সপ্তাহ কারাগারে থাকার পর ঈদের কদিন আগে ছাড়া পান শাহীন। কারাভোগের কারণে এ বছর অন্য বছরের তুলনায় আরও অনেক বেশি নেতাকর্মী ঈদের দিন তার বাসাতে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন। গের

নিউজটি শেয়ার করুন

286 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ