আগস্ট ১২, ২০১৫ ১০:০২ অপরাহ্ণ

সিলেটে ‘লাড়কি তোড়া’ উৎসব , যেখানে এক হয়ে যায় হিন্দু-মুসলিম


কুলাউড়া সংবাদঃ  অলিকূল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ওরসের তিন সপ্তাহ আগে করা হয় ‘লাড়কি তোড়া’ উৎসব। আর এইদিনেই সিলেট বিজয় করেন হযরত শাহজালাল (রহ.)। সিলেটের জালিম শাসক গৌরগোবিন্দকে সিলেট থেকে বিতারিত করেন। তাই প্রতি বছর ওরসের আগে এই উৎসব করা হয়।

হাজারও ভক্তের আগমনে বুধবার শেষ হলো হযরত শাহজালালের (রহ.) ওরসের ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব। সাতশ বছরের ধারাবাহিকতায় ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসবে শত শত মানুষ নেচে গেয়ে শহরতলীর লাক্কাতোড়া এলাকাসহ একটি টিলা থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করেন। এ উপলক্ষে শাহজালালের মাজারে ভক্ত ও আশেকানের ঢল নামে।

‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসবে অংশগ্রহণকারী ভক্তদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, শত শত বছর ধরে সিলেটে লাকড়ি তোড়া উৎসব পালন করা হচ্ছে। আর এতে অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ। শুধু সিলেট নয় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি নিয়েও ভক্ত ও আশেকান সিলেটে এই উৎসবে শরিক হন।

ভক্তরা বাংলামেইলকে জানান, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ওরসের ২০ দিন আগে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই উৎসবে সংগ্রহ করা লাকড়ি দিয়ে ওরসের শিরনী রান্না করা হয়।

এদিকে ‘লাকড়ি তোড়া’ উপলক্ষে সকাল থেকে সিলেট নগরী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকা ভক্ত ও আশেকানরা ঢাকঢোল পিটিয়ে গান ও গজল গেয়ে গেয়ে অলিকূল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে আসেন। দুপুরে মাজার এলাকায় ভক্ত ও আশেকানে কানায় কানায় ভরে ওঠে। নামাজ আদায়ের পর ভক্তরা মাজার প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালি শুরু করেন। এ সময় তাদের মাথায় ছিল লালসালু। র‌্যালি ছাড়া ট্রাক, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে ভক্ত ও আশেকানরা অংশ নেন। র‌্যালিটি কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ হয়।

মাজার থেকে ভক্তরা যান পেঁনছেন লাক্কাতোড়া পাহাড়ে। পাহাড়ের উপরে ওঠে লাকড়ি সংগ্রহ করেন দল বেঁধে। আবার দলে দলে গান ও গজল গেয়ে ভক্তরা ফিরে আসেন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে।

উৎসবে আসা আনোয়ার আলী নামের এক ভক্ত বাংলামেইলকে জানান, ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব হয়েছে সার্বজনীন। এখানে সব ধর্মের মানুষ অংশ নেন।

শাহজালাল (রহ.) দরগাহের মোতাওয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান বাংলামেইলকে জানান, ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। সংগৃহিত কাঠ ওরসের শিরনী রান্নায় কাজে লাগানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

271 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ