আগস্ট ২৬, ২০১৫ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

সিলেটে এবার ‘পাওনা টাকা চাওয়ায়’ শিশুকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ


সিলেটে শিশু রাজন হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরকে শিশুকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার ঘোপালে একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে ‘পাওনা টাকা চাওয়ায়’ ওই ফ্যাক্টরিরই শ্রমিক মো. আকমল হোসেন (১১) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

এ অভিযোগে নিহত শিশুর পিতা এখলাস মিয়া বাদী হয়ে ফ্যাক্টরি মালিক হাজী ওয়াহব আলীসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে জালালাবাদ থানায় গত শুক্রবার মামলা দায়ের করেছেন। এরআগে গত বৃহস্পতিবার শিশুটি মারা যায়।

নিহত শিশু মো. আকমল হোসেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের পাহাড়পুর (পূর্ব রাজনপুর) গ্রামের দিনমজুর মো. এখলাছ মিয়ার ছেলে।
সে সদর উপজেলার ঘোপালে ফুড মার্ক ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে কাজ করত।

নির্যাতন করে শিশু হত্যার অভিযোগে মামলা রেকর্ডের কথা স্বীকার করেছেন জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘নিহত শিশুর বাবা লিখিত একটি এজাহার দিয়েছেন, যা মামলা হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা রেকর্ডের পর পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।’

তবে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি আখতার জানান, ফ্যাক্টরির পার্শ্ববর্তী পুকুরে গোসল করার সময় পাশ্ববর্তী শৌচাগারের দেওয়াল ধসে আকমল নিহত হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি আখতার আরো জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে কারখানার বাথরুমের দেয়ালে চাপায় পড়লে শিশু আকমল হোসেনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হলে সে মারা যায়।

তবে ওসি এও জানান, নিহতের বাবার অভিযোগ গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে।

এখলাছ মিয়া মামলার এজাহারে অভিযোগ করেন, ‘দুই বছর ধরে ১৩শ’ টাকা বেতনে ঘোপাল ফুড মার্ক ব্রেডে চাকরি করত তার ছেলে আকমল। কয়েকদিন আগে ফ্যাক্টরির মালিক মো. ওহাব আলী ও কারিগর আব্দুর রহমানের কাছে বকেয়া বেতনের টাকা চাইতে গিয়ে তাদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরপর থেকে ওহাব ও কারিগর আব্দুর রহমান তার ছেলেকে নির্যাতন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৪ টার দিকে তাকে আঘাত করা হয়। এতে তার ছেলে গুরুতর আহত হলে দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ অবস্থায় পুলিশ আকমলের লাশ উদ্ধার করে একই হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।’

পরে খবর পেয়ে রাত সোয়া ৮ টার দিকে ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মাথা থেতলানো, মুখের ডান পাশ ফোলা এবং নাক-কান দিয়ে রক্ত বেরুতে দেখেন বলে অভিযোগ করেন এখলাছ মিয়া।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার আকমলের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পরিবারের আরো কয়েক সদস্য ওই ফ্যাক্টরিতে কাজ করার সূত্র ধরে শিশু আকমল এখানে কাজ করতে আসে। ঘটনার দিন কাজ শেষে আরো দুই শিশু পার্শ্ববর্তী পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পাশের শৌচাগারের দেওয়ালে উঠে লাফালাফি করছিল আকমল। একপর্যায়ে পুরনো দেওয়াল ভেঙ্গে আকমলের ওপর পড়ে গেলে সে গুরুতর আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সদর উপজেলার কুমারগাওয়ে ১৩ বছরের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করার পাশাপাশি নির্যাতনের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়; যা নিয়ে দেশে-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

226 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ