ডিসেম্বর ১৭, ২০১৫ ৯:৩১ অপরাহ্ণ

সিলেটে এবার নির্মিত হচ্ছে ‘সবুজ স্টেডিয়াম


সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। পাহাড় আর চা বাগানবেষ্টিত অনিন্দ্য সুন্দর একটি স্থানে গড়ে উঠেছে এ স্টেডিয়াম। ইতোমধ্যে ২০১৪ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ আায়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা করে স্টেডিয়ামটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসা খেলোয়াড়-কর্মকর্তা, কোচ এবং বিদেশী সাংবাদিকসহ পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্ধুতে পরিণত হয় সবুজের বুকে গড়ে উঠা সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি।

পাহার আর সবুজ চা বাগানের ভেতর দিয়ে নির্মিত স্টেডিয়ামের অন্যতম একটা ব্যতিক্রমী দিক ছিল ‘গ্রিন গ্যালারি’। বাংলাদেশের একমাত্র ‘গ্রিন গ্যালাার’র এই স্টেডিয়ামটির প্রেমে মজেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেট কোচ ডেভ হোয়াটমোরসহ স্বয়ং আইসিসির অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাঠের আন্তর্জাতিক মান তৈরি এবং ক্রীড়া সংস্থার সংশ্লিষ্ট সংগঠকদের জোর তৎপরতার ফলে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সক্ষম হয়। পূর্ণ হয় সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। তাই বিগত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সিলেটের ক্রিকেট পাগল দর্শকরা আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে ঘরের মাঠে বসে খেলার দেখার স্বাদ গ্রহণ করেন। এতো অর্জনের পরও আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণতা তৈরিতে কিছু খেদ ছিল। সেটাও এবার পূরণ হতে চলেছে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপ দিতে এবং সিলেটের ক্রিকেটকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে গত ৬ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রণালয়, ক্রীড়ামন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিসিবি ও বিভাগীয় ক্রীড়া পরিষদের যৌথ উদ্যোগে সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে আউটার স্টেডিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিলেটের লাক্কাতুরাস্থ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ দশমিক ৭৩ একর জমিতে আউটার স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়। আগামী অর্থবছরে শুরু হয়ে দুই বছর সময়ের মধ্যে স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ শেষ হবে। আর সেটি নির্মাণ হলে বিদেশী দলগুলো সিলেট সফরে অনুশীলনের সুযোগের পাশাপাশি সিলেটের ২০টি দল সকাল-বিকাল অনুশীলনের সুযোগ পাবে। আর নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেলে অলক কাপালী, রাজিন সালেহ, তাপস বৈশ্য, এনামুলদের মতো খেলোয়াড় তৈরিতে সহায়ক হবে।

এগিয়ে চলা সিলেট ক্রীড়াঙ্গনে যুক্ত হওয়া আরেকটি মাইলফলকের বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে অবগত করতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ডাকা হয় সিলেটের প্রশাসন, সাংবাদিক এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে। সেখানে আউটার স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রাথমিক ডিজাইন প্রজেক্টেরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

এসময় তিনি জানান- স্টেডিয়ামটি পুরোটাই সবুজ হবে। দু’পাশের গ্যালারি থাকবে সবুজ। একটি স্টেডিয়ামের যতগুলো সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা, তার সবটাই থাকবে সেখানে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়িও নির্মাণ করা হবে। সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মতো আউটার স্টেডিয়ামও গতানুগতিকতার বাইরে আকর্ষণীয়ভাবে তৈরি করা হবে। যাতে সকলের কাছে সেটি আকর্ষণীয় হয়। নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামের সব চিত্র উপস্থাপনের পর উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আগামী বছর সিলেটে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করেন। পরে আউটার স্টেডিয়াম নির্মাণের স্থান ঘুরে দেখেন নেতৃবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ, বিমানবন্দর থানার ওসি গৌছুল হোসেন, জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ, বীর বিক্রম ইয়ামীন ক্রীড়া চক্রের সভাপতি গোলাম জাকির চৌধুরী জাবু, আটাব সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিল, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ, সদস্য তকরিমুল হাদী কাবি, সুমায়েত নুরী জুয়েল, ফরহাদ কোরেশী, ভেন্যু ম্যানেজার জয়দীপ দাশ সূজক, বিভাগীয় ক্রিকেট কোচ এ.কে.এম মাহমুদ ইমন, বিভাগীয় ক্রিকেট কমিটির সদস্য ওয়াসিমুজ্জামান অনি প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

1571 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ