সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৫ ৪:৩০ অপরাহ্ণ

সবাই ছুটিতে গেলে দেশ চলবে কেমনে?


এই ঈদে আপনার আমার মতো তারাও গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে ছুটি কাটাতে পারতেন। পারতেন নগরযন্ত্রণা থেকে মুক্ত হয়ে অন্তত কিছুটা সময় প্রকৃতির নীবিড় সান্যিধ্য গ্রহণ করতে। কিন্তু দায়িত্ব ও কর্তব্য তাদেরকে দূরে রেখেছে প্রিয়জন, প্রিয় মুখ, প্রিয় শহর-গ্রাম-মাঠ ও প্রকৃতি থেকে। আপনার রেখে যাওয়া রাজধানী ঢাকা শহরকে তারা দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন। আর জানমালের নিরাপত্তা দিচ্ছেন যারা ঈদে ঢাকাতেই রয়ে গেছেন বা ঢাকা শহরেই যারা থাকেন, তাদের। এটা এই মুহূর্তে তাদের জন্য যতোটা চাকরি তার চেয়ে অধিক হচ্ছে কর্তব্য।

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীর অধিকাংশ মানুষই কর্মস্থল থেকে ফিরে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। আর যারা এখনো যেতে পারেননি তারাও প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে আজ চলে যাচ্ছেন প্রিয়জনদের কাছে। এই ঈদযাত্রায় আপনজনের কাছে নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে রেলস্টেশন, নৌ টার্মিনাল, হাইওয়েসহ বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা দিচ্ছেন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। নগরবাসী ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পর ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তাও দিচ্ছেন তারাই।

অন্যান্যবারের মতো এই ঈদেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য ছুটি পাননি। শুধু রাজধানীতেই ১২ হাজার পুলিশ সদস্য এবং দুই হাজার র‌্যাব সদস্য ঈদের ছুটি না কাটিয়ে মানুষের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছুটি না পেলেও কোনো আক্ষেপ নেই তাদের। বরং সবার ঈদ আনন্দ নির্বিঘ্ন হলেই তাদের তৃপ্তি। দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ভেতরেই তারা খুঁজে নিচ্ছেন ঈদ-আনন্দ।

ঈদের ছুটিতে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, আপনজন ছেড়ে ঈদ করতে খারাপ লাগলেও দায়িত্ব ও কর্তব্যের চেয়ে বড় কিছু তারা ভাবছেন না। তারা জানিয়েছেন, মানুষের সেবার ব্রত নিয়ে এ ধরনের চাকরিতে ঢুকেছি। যত কষ্টই হোক না কেন দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। আর এটাই পুলিশ বাহিনীর মূলমন্ত্র।

ঈদের দিন সকালে মহাখালী বাস টার্মিনালে কথা হয় দায়িত্বরত পুলিশ উপ-পরিদর্শক রাইসুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরাতো অধিকাংশ ঈদেই ছুটি পাই না। এ নিয়ে মন খারাপের কিছু নেই। পুলিশের চাকরিতে এটা খুবই স্বাভাবিক। এটা মেনে নিয়েইতো চাকরি করছি। চাকরির চাইতে বড় কথা এটা একটা সেবা। মানবসেবা।’

আপনজনের জন্য খারাপ লাগে কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘খারাপতো লাগেই। মায়ের সঙ্গে একটু আগে কথা বলেছি। বলেছি ঈদের পর ছুটি নিয়ে আসবো।’

তার পাশে থাকা পুলিশের কনস্টেবল রেজোয়ান আহমেদ বলেন, ‘ভাই পুলিশের চাকরি এমনই। সবাই যদি ছুটিতে যায় তবে দেশ চলবে কেমনে? তাই আমাদের এতটুকু ছাড়তো দিতেই হয়। কারণ জনসাধারণের সেবা দেয়াই আমাদের কাজ। পুলিশ বাহিনীতে এটাই শেখানো হয়।’

মগবাজার মোড়ে কথা হয় টহল পুলিশ সদস্য মঞ্জুরুল করিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। গত দুই ঈদে ছুটি পাইনি। কষ্ট পাবার কিছু নেই। এই বাস্তবতা মেনেই চাকরিতে এসেছি। তবে বাবা-মা, স্ত্রী সন্তানের জন্যতো মন কাঁদেই। তাদের সান্ত্বনা দিয়ে রাখি, ঈদের পর আসবো বলে।’

জাতীয় ঈদগাহ এলাকায় দায়িত্বরত র‌্যাব সদস্য আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমার পাঁচ বছরের একটি মেয়ে আছে। মেয়েটার জন্য মন খারাপ লাগছে। কিন্তু দায়িত্বতো দায়িত্বই। এটা আগে করতে হবে। তারপর অন্য কিছু।’

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তায় ১২ হাজার পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছে। নগরীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক পুলিশ সদস্যের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। অধিকাংশ সিনিয়র অফিসাররাও এবার ঈদে দায়িত্ব পালন করছেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মেজর মাকসুদুল আলম বলেন, ‘ঈদে নাগরিকদের বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়। তাই নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সবাই ছুটি পায় না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

159 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ