সেপ্টেম্বর ২, ২০১৫ ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ

শ্রদ্ধায় ওসমানীকে স্মরণ করলো সিলেটবাসী


বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানীকে স্মরণ করেছে সিলেটবাসী। তার ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সিলেটে একাধিক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে ওসমানী জাদুঘরে উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওসমানী স্মৃতি ট্রাস্টের ট্রস্টি এবং স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট নওসাদ আহম্মদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিরাজুল ইসলাম উকিল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, ভাষা সৈনিক মতিন উদ্দিন জাদুঘর এর পরিচালক ডা. মোস্তাফা শাহ জামান চৌধুরী বাহার, অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন আহমদ।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন- এমসি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কাজী আতাউর রহমান।

সত্য প্রিয় দাশ শিবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলওয়াত করেন- সিটি করপোরেশনের মসজিদের ইমাম মাওলানা জুবায়ের আহমেদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন জাদুঘরের সহকারী কিপার এস এম জালাল উদ্দিন।

আলোচনা শেষে বঙ্গবীর ওসমানীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয় এবং খাবার বিতরণ করা হয়।

এদিকে, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনাকে স্মরণ করেছেন জনতা পার্টির নেতাকর্মীরাও।  মঙ্গলবার বিকেলে বিয়ানীবাজার উপজেলার জাতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় জনতা পার্টির বিয়ানীবাজার উপজেলা কমিটির অন্যতম সদস্য নিশু তাফাদারের সভাপতিত্বে, মাছুম আহমদের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক ও সিলেট মহানগর কমিটির সাধারন সম্পাদক মাহমুদুর রহমান লায়েক।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ওসমানী ছিলেন খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং নির্লোভ রাজনীতিবীদ। জাতির যে কোন সংকট মূহুর্ত তিনি অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতির সামনে অনুকরণীয় আদর্শ রেখে গেছেন। তার আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা পেলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। ওসমানীর সঠিত নেতৃত্বে মাত্র ৯ মাসে পাক হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেছিলেন।

তিনি পাঠ্য পুস্তকে ওসমানীর জীবনী অর্ন্তভুক্ত করার জন্য দাবি জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।

আলোচনা শেষে এম এ জি ওসমানীর রূহের মাগফেরাত, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করেন মাওলানা মুজিবুর রহমান।

এছাড়াও আতাউল গণি ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সংগঠনের আহবায়ক আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য আলী আহসান হাবীবের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন- সিলেট জেলা জজ কোর্টের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ১৯১৮ সালের এই দিনে বাবা খান বাহাদুর মফিজুর রহমানের কর্মস্থল সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানী। তাঁর পৈতৃক নিবাস দয়ামীর। মা জুবেদা খাতুন।

বঙ্গবীর ওসমানী ১৯৩১ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। পরের বছরই তিনি সামরিক শিক্ষা শেষ করে বৃটিশ কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৪১ সালে ক্যাপ্টেন এবং ১৯৪২ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হন। তিনিই ছিলেন তখনকার বৃটিশ সাম্রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ মেজর। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে সামরিক ইতিহাসে অনন্য নজির স্থাপন করেন।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তিনি আত্মনিয়োগ করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী গঠনে। এ সময় তিনি ল্যাফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন। ১৯৫৭ সালে উন্নীত হন কর্নেল পদে। ইপিআর প্রতিষ্ঠায় রয়েছে তার বিশাল অবদান। তারই ধারাবাহিকতায় একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয় তার ওপর। সেই দায়িত্ব অতি নিষ্ঠার সাথে পালন করেছিলেন।

১৯৭৩ সালের মার্চে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ওসমানী তার নিজের এলাকা থেকে অংশ নেন এবং নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য লাভ করেন। ১৯৭৩ এর নির্বাচনে ওসমানী ৯৪ শতাংশ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি ডাক, তার, টেলিযোগাযোগ, অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন।

১৯৭৪ সালের মে মাসে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে তিনি সংসদ সদস্যপদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্যপদ ত্যাগ করেন। সে বছরের ২৯ আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পান। তবে ৩ নভেম্বর জেলহত্যার ঘটনার পর পদত্যাগ করেন। ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওসমানী ‘জাতীয় জনতা পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জেনারেল (অব.) এম.এ.জি. ওসমানী ছিলেন গণ ঐক্য জোট, জাতীয় জনতা পার্টি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় আওয়ামী পার্টি (মোজাফ্ফর), বাংলাদেশ পিপলস লীগ, গণ আজাদী লীগ মনোনীত প্রার্থী। ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেন তিনি।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার্থে লন্ডন থাকাকালীন ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন। তার অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর দরগাহ সংলগ্ন কবরস্থানে মায়ের পাশে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

274 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ