অক্টোবর ১৫, ২০১৫ ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

রাজন হত্যা: প্রধান আসামি কামরুলকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছে পুলিশ


কুলাউড়া সংবাদ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৫ ॥ সিলেট সদর উপজেলার কুমারগাঁওয়ের নির্মাম নির্যাতন করে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে পুলিশের তিন কর্মকর্তা কামরুল ইসলামকে নিয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় তাকে ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ তারিখ সোমবার (রোববার দিবাগত) রাত কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাবুবুল করিম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার এ এফ এফ নেজাম উদ্দিন ১২ অক্টোবর সৌদি আরব যান।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়লে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাজনকে হত্যার পরপরই সৌদি আরব পালিয়ে যায় প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম। তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অধিকাংশ আসামিকে ধরে পুলিশের হাতে দেয় এলাকাবাসী। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর রাজনের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানান সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও এমপি। সাহায্যও করেন রাজনের পরিবারকে। সেই সাথে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসেন প্রবাসীসহ সিলেটের স্থানীয় বাসিন্দারাও। এমনকি মন্ত্রী ও এমপিরা আশ্বাস দেন দ্রুত হত্যা মামলার নিষ্পত্তির।

১৬ আগস্ট রাজন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে সৌদিতে আটককৃত কামরুল ইসলাম, তার ভাই শামীম আহমদ এবং আরেক হোতা পাভেলকে পলাতক দেখানো হয়। আদালত ২৪ আগস্ট সোমবার চার্জশিট আমলে নেন।

পরদিন, ২৫ আগস্ট পলাতক কামরুল ও শামীমের মালামাল ক্রোক করে নগরীর জালালাবাদ থানা পুলিশ।

৩১ আগস্ট সৌদি আরবে আটক কামরুলসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়সীমার মধ্যে পলাতকরা আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত বিচারিক কাজ শুরুর লক্ষে মামলাটি দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

232 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ