জুলাই ২২, ২০১৫ ৩:১৬ অপরাহ্ণ

যেভাবে দিন কাটছে রাজনের বাবা-মার


কুলাউড়া সংবার,বুধবার, ২২ জুলাই ২০১৫ ॥ সিলেটে নির্মম নির্যাতনে নিহত শিশু সামিউল আলম রাজনের বাড়িতে ছিল না ঈদের আনন্দ। ছিল শুধু বেদনা। ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা, অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা। বুকের ধন রাজনকে হারিয়ে গেল কয়েকদিনে অনবরত কান্নায় তারা উভয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

মানুষ দেখলেই তারা রাজনের জন্য কেঁদে উঠেন আর ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে রাজনের বাড়িতে ঈদের দিন সংবাদকর্মীরা গেলে দেখতে পান ফ্যাল ফ্যাল করে এ দিক-ও দিক তাকাচ্ছেন তার মা লুবনা আক্তার। যেন খুঁজে ফিরছেন হারানো মানিক রাজনকে। কোনো সান্ত্বনাই তাকে শান্তি দিচ্ছে না। রাজনের নাম শুনলেই তিনি কেঁদে উঠেন। তিনি বলেন, ‘আমার বুকের ধন রাজনকে যারা মেরেছে তাদের বিচাই চাই, বিচার চাই। আমি তাদের ফাঁসি চাই, আমার ছেলেকে যেভাবে মেরেছে, ঠিক সেইভাবে তাদের মৃত্যু দেখতে চাই।’

এ সময় রাজনের ছোট ভাই সাজন মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিল। মায়ের মতো সেও বাকরুদ্ধ। ভাইকে হারিয়ে ঈদের আনন্দ ভুলে গেছে ছোট্ট শিশুটিও। রাজনের শোকে কাঁদতে কাঁদতে তার বাবা শেখ আজিজুর রহমানের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। রাজনের চাচা শহিদুর রহমান বলেন, রাজন হত্যার পর থেকেই তার ভাই আজিজ ভেঙে পড়েছেন। গত ১৪ জুলাই তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন ডাক্তার বলেছেন, তার (রাজনের বাবা) পাশে রাজন সম্পর্কে কাউকে কিছু না বলার জন্য।

দেখা গেছে, রাজনের কবর তার বাড়ির পাশেই দেয়া হয়েছে। কবরটি তার ঘর থেকে কয়েক শ’ গজ দূরে। ঘর থেকে বের হলেই রাজনের কবর চোখে পড়ে। ঈদের দিন সকাল থেকে রাজনের কবর জিয়ারত করতে আসেন অনেকেই।

রাজনের পরিবারের সদস্যদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, রাজন হত্যার পর থেকে এলাকাবাসী, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তাদের সহযোগিতা করছেন। বাড়িতে আসছেন, সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
রাজনের চাচা আশিকুর রহমান বলেন, ‘টাকা-পয়সা দিয়ে আমাদের কী লাভ। আমরা যে ধন হারিয়েছি তাতো আর ফিরে পাবো না। এখন আমাদের একটাই দাবি, রাজন হত্যার বিচার চাই। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। হত্যাকারীদের ফাঁসি হলেই রাজনের আত্মা শান্তি পাবে।

রাজনের চাচা শহিদুর রহমান জানান, রাজনের কথা মনে পড়লে কান্না চলে আসে। কিছুতেই রাজনকে ভুলতে পারি না। এ কথা বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ঈদ উপহার
শিশু সামিউল আলম রাজনের বাড়িতে ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন সিলেটের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। ঈদের আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর ছাত্রলীগের দুই কর্মীর মাধ্যমে রাজনদের বাাড়িতে এই উপহার পাঠান তিনি। ঈদ উপহারের মধ্যে ছিল রাজনের মায়ের জন্য দু’টি শাড়ি, রাজনের ছোট ভাই সাজনের জন্য ঈদ জামা আর সেমাই, দুধ, চিনি, তেল প্রভৃতি।

এদিকে অর্থমন্ত্রী শুক্রবার দুপুরে সিলেট সদরের বাদেআলী গ্রামে নির্যাতনে নিহত শিশু রাজনের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে রাজনের ভাই সাজনের ভবিষ্যতের জন্য পাঁচ লাখ টাকার ফান্ড গঠনের ঘোষণা দেন। এর আগে মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে রাজনের বাড়িতে গিয়ে রাজনের পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন এবং এক লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

142 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ