আগস্ট ২১, ২০১৭ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

মো. জিয়াউল হক এর চারটি কবিতা


কিভাবে কবি হলাম?
মো. জিয়াউল হক

মাঝে মাঝে বুদ্ধিজীবীর মত ভাবি,
আগে কি ছিলাম আর এখন কি হলাম!

সময়ের যেন মৃত্যু নেই, চলেছে বয়ে একগুঁয়ে হিটলারের মত,
সেই নিরন্তর সময়ের মাঝে কিভাবে যেন কবি হয়ে গেলাম!

মানুষ কেন কবি হয়, কেন লেখে?
এর উত্তর সবাই দেয়ার চেষ্টা করে ঠিকই,
তবে লালন এবং বুদ্ধ যেমন সব প্রশ্নের পাননি উত্তর,
এর সঠিক উত্তরও অজানা তেমনই!

আমি লিখি কারণ আমার কষ্টগুলোকে বর্ণ দিয়ে সহজেই মোছা যায়,

আমি লিখি কারণ লিখার জন্যই আমার জন্ম,

আমি লিখি কারণ আমার সন্তুষ্টি আমার সৃষ্টিশীলতা ছড়িয়ে দেয়ায়!
আমি লিখি কারণ লিখাটাই আমার সত্যিকারের কর্ম!
রোগীর কাছে যেমন ঔষধ মূল্যবান,
আমার কাছে আমার সৃষ্টিকর্ম তেমন,
জানি না আজ হতে সহস্র বছর পরে,

কেউ পড়বে কিনা লেখা মোর, যদি পড়ে, তবে সার্থক জীবন!

আমি সময়কে বাক্যের মধ্যে বন্দি করি,
আমি সময়ের সত্যকে খুঁজে ফিরি,
আমি মিথ্যাকে ফুটবলের মত লাথি মারি,
আমি কবি, আমি স্বপ্ন আঁকি, আমি স্বপ্ন ধরি!

হে কৃষক, তোমায় সালাম!
মো. জিয়াউল হক

এই কবিতাটি কৃষকদের জন্য,
করে চলেছে যারা মোদের ধন্য,
খেটে চলেছে দিনরাত যন্ত্রের মত,
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অবিরত।
যে ক্ষেত করে চাষ, সেটার মালিক সে নয়,
সূর্যের মত করে সে কাজ অবিরাম, অন্যে ধনী হয়,
হায়! এ কেমন আজব কারবার?
সভ্যতার বাহক যারা, পায় না তারা ন্যায় বিচার!
সূর্যের অহংকার ঢেঁকীতে ভানা চালের মত গুঁড়িয়ে দিয়ে,

বৃষ্টিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে,
ঝড়ের রক্তচক্ষুকে ভয় না করে নিশ্চিন্তে,
মহামানবের মত সদা আগুয়ান কৃষক লাঙল ও কাস্তে হাতে।

অর্থনীতির চাকা ঘুরায় যারা,
সভ্যতার ফানুস উড়ায় যারা,
দেশের মেরুদণ্ডস্বরূপ যারা,

আজ ভীত পশুর মত কোণঠাসা, দিশেহারা তারা!

রতনে নাকি রতন চেনে,
কৃষক নামক রতন যে দেশ না চেনে,
সে দেশের মাথা পাহাড়ের মত উঁচু হবে কি করে?
সে দেশ 'অবনতি' নামক ব্ল্যাকহোলের অভ্যন্তরে রইবে পড়ে!

গাহি সাম্যের গান
মো. জিয়াউল হক

“গাহি সাম্যের গান-

মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান।”
বলেছেন কবি নজরুল সেই কবে!
যুগ যুগ ধরে তা রঙধনুর মতই উজ্জ্বল রবে!

সাম্যের তরে অকাতরে দিয়েছেন বিলিয়ে জীবন,
গান্ধী, সক্রেটিসসহ বহু জ্ঞানী ও গুণীজন,
ম্যান্ডেলা করেছেন সংগ্রাম দিতে মানুষকে ‘মানুষ’ পরিচয়,
সাদা ও কালো রঙের ভেদাভেদ কি পশুর মত আচরণ নয়?

কণ্টকাকীর্ণ মুকুট মাথায় নিয়ে,
যিশু চলেছেন যখন ক্লান্ত ও নগ্ন পায়ে,
তখনও প্রতিটি ঘামের কণা, প্রতিটি রক্তবিন্দু তাঁর!
গেয়েছে সাম্য ও মানবতার জয়গান বারবার!

তুমি বৃষ্টি হয়ে যাও
মো. জিয়াউল হক

তুমি বৃষ্টি হয়ে যাও,
বৃষ্টির মতন শীতল, কোমল,
তুমি ঝরে পড়ো আকাশ হতে,
আবার মেঘ হয়ে আকাশেই ফিরে যাও!

তোমার স্পর্শে জাগুক ধরা নব প্রাণে,
হৃদয়ে ফুটুক চির বসন্ত ফুলেরই মতন,
তুমি ঝরো, স্বর্গ সুধায় মাতুক মন,
জীবনের স্বরূপ হোক উন্মোচন নতুন করে।

তুমি বৃষ্টি হয়ে যাও,
আমার সর্বাঙ্গ যাও ছুঁয়ে, আবার!

মো. জিয়াউল হক-এর শিকড় জকিগঞ্জ, সিলেট, বাংলাদেশ। তিনি একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কবি, লেখক, ঐপন্যাসিক, নাট্যকার, অভিনেতা, ডিরেক্টর,
চিত্রনাট্যকার, শিক্ষক, গীতিকার, গল্পকার, ছড়াকার, অনুবাদক, কলাম লেখক, সাহিত্য
সমালোচক, প্রবন্ধকার, চিন্তাবিদ, দার্শনিক এবং গবেষক। তিনি শাহ্‌ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে সম্মান এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলায় তার
ছদ্মনাম হল ‘শব্দরাজ’, ইংরেজিতে যার অনুবাদ করলে হয়, ‘King of Words’। দেশে এবং
বিদেশে তার এককভাবে প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ১৯ টি এবং যৌথ গ্রন্থ একাধিক। তিনি কিছু
নতুন শব্দের উদ্ভাবন করেছেনঃ ‘Poetenry’ [দশপদী কবিতা]; ‘Kurine’ [বিশপদী কবিতা],
‘Poestory’ [গল্প + কবিতা = গল্পিতা], ‘Haqueian Verse’ [‘হকিয় কাব্য’] [এটিতে পাঁচটি লাইন
এবং মোট দশটি শব্দ আছে। কবিতাটি একটি শব্দ দ্বারা শেষ হয় যে শব্দটির সাথে প্রথম শব্দের
অন্ত্যমিল থাকা বাধ্যতামূলক] ইত্যাদি। বর্তমানে তিনি সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-তে
ইংরেজি ভাষা এবং সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। মুঠোফোন এবং ইন্টারনেটেও তিনি ভক্ত,
বন্ধু কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে ভাবের আদান-প্রদান করেন! ইমেইলঃ
mdziaulhaque708@gmail.com

নিউজটি শেয়ার করুন

539 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ