সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৫ ১০:১১ অপরাহ্ণ

বরফ গলেনি দুবাইয়ের, খুলছে না ভিসা!


সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রায় বন্ধ শ্রমবাজার তিন বছরেও উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। শুধু নারী গৃহকর্মী ও ঢাকার দূতাবাসের বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া সাধারণ বাংলাদেশি শ্রমিকরা ভিসা পাচ্ছেন না। ধারণা করা হচ্ছিল ভিভিআইপি সফরের পর আমিরাতের সঙ্গে জমাট সম্পর্কের বরফ গলে যাবে। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বরং ভিসা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশিদের কাজের ক্ষেত্রগুলো এখন দখল করে নিচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলো। সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা বলছেন, আমিরাতে বাংলাদেশিদের অপরাধ প্রবণতাই আজকের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এবং প্রবণতা এখনো না কমায় নানা চেষ্টা সত্ত্বেও দুবাই কর্তৃপক্ষকে ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আনা যায়নি। জানা যায়, আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অপরাধ প্রবণতা মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ২০১২ সালের আগস্টে আমিরাতে কর্মসংস্থান ভিসা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৩ সালের নভেম্বরে বন্ধ হয় ব্যবসায়ী ও পর্যটক ভিসা। এরপর থেকেই বিশেষ পরিস্থিতিতে শুধু ঢাকার দূতাবাসের মাধ্যমে শর্ত সাপেক্ষে ভিসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০০৬ সালে এক লাখ ৩০ হাজার ২০৪ জন, ২০০৭ সালে দুই লাখ ২৬ হাজার ৩৯২ জন, ২০০৮ সালে চার লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ জন, ২০০৯ সালে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৮ জন, ২০১০ সালে দুই লাখ তিন হাজার ৩০৮ জন, ২০১১ সালে দুই লাখ ৮২ হাজার ৭৩৯ জন, ২০১২ সালে দুই লাখ ১৫ হাজার ৪৫২ জন বাংলাদেশি ইউএইতে গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ হওয়ায় ২০১৩ সালে মাত্র ১৪ হাজার ২৪১ জন, ২০১৪ সালে মাত্র ২৪ হাজার ২৩২ জন এবং চলতি ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১৭ হাজার ৪৪৬ জন আমিরাতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, বর্তমানে ১২ থেকে ১৫ লাখ বাংলাদেশি এখানে রয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রতিদিনই স্থানীয় সংবাদপত্রে বাংলাদেশিদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার খবর প্রকাশ হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরব আমিরাত। অবশ্য জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ ছিল, সরকার দুবাইয়ের ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২০ সামনে রেখে রাশিয়াকে সমর্থন দিলে ক্ষুব্ধ হয় আরব আমিরাত। তবে পরে আরব আমিরাতকে ভোট দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আমিরাতে জনশক্তি রপ্তানি স্বাভাবিক করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২০ সামনে রেখে দেশটিতে যে কর্মযজ্ঞ হবে, সে উদ্দেশে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর অক্টোবরে সফর করেন আমিরাত। দুবাই কর্তাদের আগ্রহে আমিরাতের সঙ্গে নিরাপত্তা ও বন্দী বিনিময় সংক্রান্ত দুই চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। কিন্তু শ্রমবাজারের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়নি আমিরাত।

পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধ প্রবণতার কারণে এখনো এ অবস্থায় রয়েছে আমিরাতের শ্রমবাজার। নিরাপত্তা ও বন্দী বিনিময় চুক্তি দুটি এখনো কার্যকর হয়নি। গত মাসে এটি বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে। আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। কিন্তু এখনো প্রায় প্রতিদিনই আমিরাতের সংবাদপত্রগুলো বাংলাদেশিদের অপরাধ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।

আমিরাতের জেলখানায় বাংলাদেশি কয়েদির সংখ্যা একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ। এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন কারণে আসামি। এর মধ্যে ১৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১০৪ জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত।সূত্র মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৯০ লাখ। এর মধ্যে স্থানীয় আরব আছে ৯ লাখ। বাকিরা বিভিন্ন দেশের। বাংলাদেশি আছে ১০ লাখের মতো। সংখ্যায় কম হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত এবং বেআইনি কার্যকলাপের ব্যাপারে আমিরাতের স্থানীয়রা বেশ স্পর্শকাতর।

আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, তিন বছরেও বন্ধ ভিসা উন্মুক্ত না হওয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার এখন দখল করে নিতে শুরু করেছে ভারত ও পাকিস্তান। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এখন প্রতিষ্ঠান চালাতে ভারত ও পাকিস্তানি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া দেশটিতে অন্যান্য দেশের বিভিন্ন কোম্পানিগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ভিসা বন্ধ থাকায় সে সব কোম্পানিতে এখন ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ থেকে ব্যাপকভাবে শ্রমিকরা যাচ্ছেন। এর ফলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

1339 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ