জুন ৩০, ২০১৫ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে মাঠ প্রশাসনে গতি বেড়েছে


জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্সে বদলে যাচ্ছে মাঠ প্রশাসনের কর্মতত্পরতা। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরাসরি সরকারপ্রধানের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। এতে কর্মকর্তারা অনুপ্রাণিত হয়ে নির্দেশনা বাস্তবায়নে জোরালোভাবে কাজ করছেন। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাঠ প্রশাসনে। বিশেষত কাজের গতি বেড়েছে।

গত বছরের ১৪ নভেম্বর মৌলভীবাজার ও পাবনা জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রম শুরু করেন। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ২৬টি জেলার উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। পর্যায়ক্রমে সব জেলায় উন্নয়ন কমিটির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করবেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে জেলার সব বিভাগীয় প্রধান কর্মকর্তাদের নিয়ে উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটি গঠিত, যা জেলার সার্বিক বিষয়ে দেখভাল করে থাকে।

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সকালের খবরকে বলেন, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারছেন এবং প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সমস্যার কথা শুনে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন এবং কিছু কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন, যা ভিডিও কনফারেন্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ভিডিও কনফারেন্সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্দেশনা দিয়ে থাকেন, তা মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফলোআপ করা হয়। যেসব জেলার উন্নয়ন কমিটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে, এ রকম কয়েকটি জেলার ডিসির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের আগে জেলার সব বিভাগের উন্নয়ন কাজ ও সরকারের পূর্ববর্তী নির্দেশনাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। অর্থাত্ কনফারেন্সের আগে জেলার সব কার্যক্রমের একটি হিসাব-নিকাশ করা হয়। পরে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী যেসব দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত দেন সেগুলো বাস্তবায়নে তত্পর হয়ে ওঠেন মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর সারাদেশের মাঠ প্রশাসনকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য সরকার উদ্যোগ নেয়। তারই অংশ হিসেবে ৬৪ জেলার প্রশাসকের কার্যালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ভিডিও কনফারেন্সেরের আওতায় আনা হয়। এসব কার্যালয়কে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে সংযুক্ত করা আছে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এ বিষয়ে সকালের খবরকে বলেন, এটা খুবই ভালো একটা উদ্যোগ। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। এতে প্রধানমন্ত্রী যেমন সরাসরি নির্দেশনা দিচ্ছেন, ঠিক তেমনি জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সদস্যরা তাদের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে পারছেন। এটা মাঠ প্রশাসনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গত ১১ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পঞ্চগড় এবং টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ভিডিও কনফারেন্স করে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেন, অনিষ্পন্ন ছিটমহল সমস্যা সমাধান হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পঞ্চগড় এবং সীমান্তবর্তী যেসব জেলায় ছিটমহল আছে সেগুলোর জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ছিটমহলবাসীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সব কার্যক্রম সমন্বিতভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পাদন করতে হবে। তখন প্রধানমন্ত্রী বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে উন্নীত করতে অবকাঠামোসহ সার্বিক বিষয়ে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার আলোকে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১১ মে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে দেশের ছোট ছোট নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে জেলা পরিষদের গৃহীত কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব সহযোগিতা দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলেছে। এভাবেই ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা নিয়ে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করে থাকে।

যোগাযোগ করা হলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সকালের খবরকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের কারণে এই জেলার মাঠ প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। জেলার উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সদস্যরা সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন, যা তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। পরবর্তী সময় এই অনুপ্রেরণায় কাজের গতি বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ছিটমহল নিয়ে আগে কোনো কাজ করিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দেওয়ার পর ছিটমহলবাসীর নিরাপত্তাসহ তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ চলছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, অর্গানিক চাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো নিয়ে কাজ করছি। আগে যে কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় ছিল না, এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কারণে নির্দিষ্ট সময়েই সে কাজ হয়ে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

189 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ