আগস্ট ২২, ২০১৫ ২:০৩ পূর্বাহ্ণ

পঁচাত্তরে জিয়া, ২১ আগস্ট হামলায় খালেদা জড়িত


২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে জড়িত তাতে কোনো সন্দেহ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; ওই হামলায় যিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সঙ্গে যেমন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জড়িত। তেমনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া জড়িত তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ চলছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আশা করি শিগগিরই এর বিচার হবে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলার মাটিতে হতেই হবে।’

বিএনপিপ্রধানের সমালোচান করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সরকারে থাকাকালীন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি ২০১৩ সালে একের পর এক ককটেল মেরে, বাসে, ট্রেনে পেট্রোল বোমা মেরে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে। পোড়া মানুষের গন্ধই খালেদার শক্তি। এখনও সেই পোড়া শরীর নিয়ে কত মানুষ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। মানুষ পুড়িয়ে মারতে খালেদা লজ্জাবোধ করে না। সে মানুষ পুড়িয়ে মেরে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু দেশের জনগণ সব সময় ন্যায় সত্যের পথে ছিল বলেই আমরা ক্ষমতায় আছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বেঁচে থাকা যে কত কঠিন তা আমি জানি। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তারা গণতেন্ত্র বিশ্বাস করে না। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হোক তারা তা চায় না। আর চায় না বলেই তারা সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারে। আমরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন চাই। দেশের মানুষের যাতে ভাগ্যের পরিবর্তন হয় আমরা সেই লক্ষে কাজ করি। আজকে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এটা তারা চায় না। তারা তো ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছে। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি কাজ করি মানুষের জন্য। খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের জন্য। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি। এতে বাংলাদেশের মানুষ পেট ভরে ভাত খাবে। মোটা কাপড় পড়বে। স্বাস্থ্য সেবা পাবে। মাতৃমৃত্যুহার কমবে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে মর্যাদার আসনে বসবে, যা বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিল।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২১ আগস্ট আমি বক্তব্য কেবল শেষ করেছি। ঠিক সেই সময় মুহুর্মুহু গ্রেনেড হামলা হয়। সাবেক মেয়র হানিফ ভাই আমার পাশে ছিলেন। তিনি সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে আমাকে বাঁচিয়েছেন। আমার চোখের চশমা হারিয়ে গিয়েছিল। আমি কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু পুলিশ টিয়ারসেল মারলো, লাঠি চার্জ করল। যেখানে আহতরা সবাই সহযোগিতা চাইছে, সেখানে পুলিশ আক্রমণ করল। আক্রান্তকারীদের প্রতি সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে দিয়ে আক্রমনকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করলো। আমি জানি না পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো ঘটনা হয়েছে কি না।’

ভয়াল সেই দিনটিতে নিহতদের প্রতি সম্মান জানাতে বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেদিন নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এরপর একবার আওয়ামী লীগের পক্ষে ও একবার ১৪ দলের পক্ষে নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিন। এরপর বক্তব্য শেষে ওইদিন নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

116 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ