আগস্ট ১০, ২০১৫ ১০:৩২ অপরাহ্ণ

ধর্ম অবমাননাকারী, ব্লগার হত্যাকারী উভয়ই উগ্রবাদী


ব্লগারদের যারা হত্যা করে এবং হযরত মোহাম্মদ (সা.), ধর্ম ও কোরআনকে যুক্তিহীনভাবে যারা আঘাত করে ব্লগ লেখে উভয়কেই উগ্রবাদী বলে আখ্যায়িত করলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

সোমবার দুপুরের পর মিন্টু রোডের নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এ মন্তব্য করেন। যারা উগ্রবাদী তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

একদিন আগেই মুক্তমনা ব্লগারদের সীমালঙ্ঘন না করার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। এরপরই মহানগর গোয়েন্দা ‍পুলিশের যুগ্মকমিশনার লেখালেখি আর চাপাতি হাতে মুখোমুখি অবস্থানে দুই পক্ষকেই উগ্রবাদী বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন।

এদিকে তরুণ ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমেরই কোনো গ্রুপ জড়িত রয়েছে বলে সন্দেহ করছে গোয়েন্দা পুলিশ।

গত ফেব্রয়ারির শেষ দিকে বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় ও মার্চের শেষের দিকে তরুণ ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যার পরও মনিরুল ইসলাম আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন।

নিলয় হত্যার তিনদিন পর মনিরুল ইসলাম আবারও সাংবাদিকদের একই সন্দেহের কথা জানালেন। যদিও এই তিনটি হত্যাকান্ডের কোনো কুল-কিনারা করতে পারেনি গোয়েন্দা পুলিশ। স্পর্শকাতর এই তিনটি মামলাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।

এছাড়া নিলয় হত্যার পর দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে আনসার আল ইসলাম নামে একটি সংগঠন। তারা নিজেদের আল কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ অংশের বাংলাদেশ অংশ বলে দাবি করেছে। পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না, এ গোষ্ঠীর তৎপরতা এদেশে আছে কি না। আর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা।

তারপরও মনিরুল ইসলাম বলছেন, ‘ধারণা করছি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কোনো গ্রুপ এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেছে।’

গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মামলা হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মামলা হস্তান্তরের পর সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।’

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় নিলয়ের একটি ল্যাপটপ ও সিম্ফোনি স্মার্টফোন খোয়া গেছে। নিজস্ব গুপ্তচর ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় এগুলো উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি আনসার আল ইসলামের ই-মেইল ও ফেসবুক আইডি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

গত ৭ আগস্ট শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পূর্ব গোড়ানে নিজ বাসায় ব্লগার নিলয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর আনসার আল ইসলাম নামের একটি সংগঠন হত্যার দায় স্বীকার করে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

128 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ