জুন ১৫, ২০১৫ ৬:৩২ অপরাহ্ণ

তিন বছরের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট


আগামী তিন বছরের মধ্যেই আকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।

সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে আইসিটি মেলার উদ্বোধনকালে তিনি একথা জানান।

তিনি বলেন, ‘মহাকাশে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ক্ষেপণ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করা যায় আগামী তিন বছরের মধ্যেই তা আকাশে উৎক্ষেপণ সম্ভব হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের মানুষ টু, থ্রি ও ফোর জি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে এবং দেশের ১২ কোটি মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারছে। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০৬ এ্যাক্ট সংশোধন করা হয়েছে। সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি তথ্য নিরাপত্তা পলিসি গাইড লাইন, বাংলাদেশ আইটেক পার্ক আইন ২০১০ এর সংশোধন, আইসিটি বাজেট অনুসরণের জন্য ফেলোশিপ বৃত্তি প্রদান, উদ্ভাবনী কাজের জন্য বৃত্তি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৩ প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।’

দেশে কোনো বিকল্প সাব মেরিন ক্যাবল না থাকায় তৃতীয় সাব মেরিন ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যেমে সেবা পৌঁছে গেছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কাছে। এর ফলে নাগরিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।’

বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে শোষণ মুক্ত সমাজ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন মন্তব্য করে আব্দুল হামিদ খান বলেন, ‘তিনি যুদ্ধাহত দেশে স্বাধীনতার পর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেন। দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য তিনি বিদেশে কর্মরত বিজ্ঞানীদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বহুবিধ ব্যবহারের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছে। এই অঙ্গিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

এদিকে ‘মেক বাই বাংলাদেশ‘ স্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া দেশের সবচেয়ে তথ্য ও প্রযুক্তির বড় আসর আইসিটি এক্সপো-২০১৫ চলবে ১৭ জুন বুধবার পর্যন্ত।

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশে কম্পিউটার সমিতি যৌথভাবে তিন দিনের এই মেলার আয়োজন করেছে। মূলত দেশীয় হার্ডওয়্যার শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

তরুণ উদ্ভাবন নিয়ে মেলায় ইনোভেশন জোন করা হয়েছে।এছাড়া গেইমিং প্রতিযোগিতা, রোবট শো, সেলব্রেটি শো হবে এই জোনে। মেলায় তিন দিনে বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ‘ডিজিটাল ই-হেলথ, হার্ডওয়্যার: চ্যালেঞ্জস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’, ‘ক্লাউড কম্পিউটিং: দি ফিউচার’, ‘পাওয়ার ব্যাকআপ সলিউশন’, ‘ফিউটার টেকনোলজি’, ‘ট্রান্সফরমিং এডুকেশন টু ডিজিটাল’, ‘আইসিটি ফর বেটার ম্যানজেমেন্ট’সহ আরও নানা বিষয়ে সেমিনার আয়োজন করা হবে।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তিবিদগণ আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন। এছাড়াও আজ বিকেলে বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের আয়োজনে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার নিয়ে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

মেলার শেষদিন ১৭ জুন দেশীয় মার্কেট প্লেস বিল্যান্সারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ‘ফ্রিল্যান্সার লোকাল মার্কেটপ্লেস: পসিবিলিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক সেমিনার। এছাড়া অন্যান্য সেমিনারের বিভিন্ন ব্যান্ড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

মেলা সম্পর্কে তরুণদের আগ্রহী করতে এবং তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিসিএস ইয়্যুথ অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও অনুষ্ঠিত হবে ‘ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা ফোরাম’ সম্মেলন।

প্রদর্শনী চলাকালে ইনোভেশন প্রজেক্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ডিজিটাল ফটো কনটেস্ট, সেলফি কনটেস্ট, গেইমিং কনটেস্ট, সেলিব্রেটি শো, প্রোডাক্ট শো, স্পন্সর আওয়ার নামের নানান সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও প্রতিদিন থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেলায় শিশুদের জন্য বিশেষ চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বয়সভিত্তিক দুই বিভাগে ‘তোমার ভবিষৎ স্বপ্নের ডিভাইস’ বিষয়ে অঙ্কন প্রতিযোগিতা ১৬ জুন বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে।

শেষ দিন বুধবার বিকাল ৫ টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এই মেলায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল(বিসিসি), অ্যাকসেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরেমশন সার্ভিস (বেসিস), সিটিও ফোরাম এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সহযোগী হিসেবে রয়েছে। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে এটিএন বাংলা, দৈনিক সমকাল এবং রেডিও টুডে। মেলার প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে অংশগ্রহণ করছে ডেল ও এইচপি। গোল্ড স্পন্সর কনিকা মিনোল্টা এবং মাইক্রোল্যাব। সিলভার স্পন্সর হিসেবে থাকছে প্রোলিংক এবং এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। মেলায় প্রবেশের জন্য কোনো প্রবেশ ফি দিতে হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

206 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ