জুন ২৬, ২০১৫ ২:৩৮ অপরাহ্ণ

ঘরে থেকেই সন্তানের কলেজে আসা-যাওয়ার তথ্য পাবেন অভিভাবকরা!


সিলেটে দুই প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স এবং ওএমআর মেশিন!

শিক্ষার্থীরা কখন কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে, কখন ক্যাম্পাস থেকে বের হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে। এমনকি অভিভাবকদের কাছে তাদের সন্তানদের কলেজে আসা-যাওয়ার সব তথ্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে ওএমআর মেশিন দ্বারা। অর্থাৎ যে পদ্ধতিতে সরকারি পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। এর ফলে উত্তরপত্র মূল্যায়নে থাকবে নিরপেক্ষতা। সিলেটে প্রথমবারের মতো প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতাকে কাজে লাগাচ্ছে সিলেট কমার্স কলেজ এবং সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ। প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের ক্যাম্পাসে বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স ডিভাইস এবং ওএমআর মেশিন স্থাপন করেছে।
10420164_405824279618194_8434159808477345292_n

জানা যায়, গত ১৫ জুন, সোমবার সিলেট কমার্স কলেজ এবং সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজে বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স ডিভাইস এবং ওএমআর মেশিন স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব এ কে এম গোলাম কিবরিয়া তপাদার। এসময় মুহিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

মূলত সিলেট কমার্স কলেজ এবং সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ দুটি হচ্ছে মুহিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গড়ে  ওঠা প্রতিষ্ঠান। সিলেটে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় এক দশক ধরে কাজ করে চলেছে মুহিবুর রহমান ফাউন্ডেশন। সিলেট নগরীর মীরের ময়দানে ২০০৫ সালে এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট কমার্স কলেজ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কমার্স কলেজে পাসের হার শত ভাগ। গত ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলের দিক থেকে প্রথম স্থান অর্জন করে। এদিকে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চলতি বছর থেকে চালু হয়েছে সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ।

শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়তে তুলার নিরন্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই মুহিবুর রহমান ফাউন্ডেশন তাদের দুই কলেজে বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স ডিভাইস এবং ওএমআর মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রায় দুই বছর অপেক্ষার পর তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। চীন থেকে আনা হয়েছে এসব আধুনিক প্রযুক্তি।

সিলেট কমার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ মোস্তাক আহমাদ দীন জানান, বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স ডিভাইসের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ঢোকা বা বের হওয়ার সময় প্রবেশমুখে স্থাপন করা ডিভাইসে আঙুল স্পর্শ করাতে হবে। এই স্পর্শের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কলেজে সংরক্ষিত থাকবে এবং একই সাথে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছেও তার সন্তানের কলেজে উপস্থিতির বিষয়টি মোবাইলে খুদে বার্তার মাধ্যমে চলে যাবে। এর ফলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন।

তিনি আরো জানান, বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স ডিভাইস স্থাপনের ফলে কলেজে আলাদাভাবে রোল কল করতে হবে না। এছাড়া ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে এমসিকিউ উত্তরপত্র মূল্যায়ন ফলে নিরপেক্ষতার সাথে উত্তরপত্র মূল্যায়ন সম্ভবপর হবে।

10246318_405824532951502_2978400955261944710_n

মুহিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. মুহিবুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় আমরা আধুনিক প্রযুক্তির সমাহার ঘটাতে পেরেছি। চীন থেকে আনা বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স ডিভাইস এবং ওএমআর মেশিন শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো যুগোপযোগী করে গড়ে তুলবে। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকরণে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ