জুলাই ২৮, ২০১৫ ৯:২০ অপরাহ্ণ

ওসমানীনগরে ভেঙ্গে গেছে কুশিয়ারা ডাইক : পানিবন্দি ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ


কুলাউড়া সংবাদ , মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০১৫ 

সিলেটের ওসমানীনগরের কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী কুশিয়ারা ডাইকের একাধিক স্থানে ভেঙ্গে নদী তীরবর্তী প্রায় ১২ গ্রামের কয়েক কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উজানের পাহাড়ী ঢল এবং বিরতীহীন বর্ষণের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডাইকের একাধিক স্থান ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গন কবলিত স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। দেখা দিয়েছে নানা রোগের। সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা এখন পৌঁছাইনি।

উল্লেখযোগ্য বন্যা কবলিত গ্রাম গুলোর মধ্যে রয়েছে, উপজেলা সাদিপুর ইউপির লামা তাজপুর, পূর্ব তাজপুর, সৈয়দপুর, সাদিপুর, সুন্দিকলা, চাতলপাড়, সম্মানপুর, ইসলামপুর, রহমতপুর ও নোয়াগাঁও। ডাইকটি সংস্কার না হওয়ায় গত ২-৩ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে এমন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামগুলোর মধ্যে লামাতাজপুর এলাকার মানুষকে সবচেয়ে বেশী দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী ভাঙ্গন আর বন্যা মিলে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে আতংক। গবাদী পশু নিয়ে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। এ গ্রামগুলোর অনেক পরিবার ২/৩ করে ভিঠামাটি হারিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ভাঙ্গনকবলিত লামাতাজপুর এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সিলেট জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, পাউবি’র উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা সরকার, বারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদাল মিয়া, উপসহকারী কর্মকর্তা গোলাম বারি, জেলা ত্রাণ ও পূর্ণঃবাসন কর্মকর্তা মাহিদুর রহমান, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলী। উপস্থিত ছিলেন, ওসমানীনগর আলীগের সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আফজারুর রহমান চৌধুরী নাজলু, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল বাছিত, আলীগ নেতা আব্দল হামিদ, সায়িদ আহমদ বহলুল, ডা: আব্দুছ ছালিক, সাদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব, কমরেড আফরোজ আলী, যুবলীগ নেতা আরিজ আলী, দিলদার আলী, এসএম কিবরিয়া, মোহন মিয়া, ফয়ছল আহমদসহ স্থানীয় আ’লীগ নেতৃবৃন্দ। পরিদর্শনকালে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অচিরেই ডাইকটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এলাকাবাসীকে।

পাউবি সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০০৯-১০ এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ওসমানীনগর থেকে বালাগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কি.মি. এলাকায় নির্মিত হয় কুশিয়ারা ডাইক। পরবর্তী সময়ে ওসমানীনগর এলাকার একাধিক স্থানে ভাঙ্গন এবং একাধিক স্থান ওয়াটার লেভেলের নিচে থাকলেও তা সংস্কার করা হয়নি।

স্থানীয় শাহ মো. ইসমাইল আলী বলেন, চারটি স্থানে ডাইকটি ভেঙ্গে যাওয়ায় কমপক্ষে দশ গ্রামের মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। ডাইকটি সংস্কার করা না হলে এলাকাবাসী চরম বিপদের সম্মুখিন হতে হবে।

পাউবি’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা সরকার বলেন, বাধটি ওয়াটার লেভেলের নিচে হওয়ায় পানি ঢুকছে। তা উচু করার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। আশা অচিরেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

142 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ