সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৫ ৪:১৭ অপরাহ্ণ

ঈদে গ্যাস নেই: পথে ও বাড়িতে দুর্ভোগ


চলছে ঈদ উৎসব। পরিবার পরিজন নিয়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার মওসুম চলছে। এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি, এ গ্রাম থেকে ও গ্রাম কিম্বা এ শহর থেকে ওই শহরে যেতেতো কিছু একটা পরিবহন লাগবেই। বাস, টেক্সি, সিএনজি, অটো-যা-ই হোক পরিবহন ছাড়া বেড়ানোর কথা চিন্তাই করা য়ায় না এই ঈদে।

কিন্তু সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন রাস্তায় এখন সত্যিই গাড়ি নেই। নেই বাস, সিএনজিসহ গণপরিবহন। কারণ পরিবহনের জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে ঈদের রাত (শুক্রবার) থেকে। বেড়াতে যাওয়ার কথাই এখন ভাবতে পারছেন না বিভিন্ন এলাকার মানুষ। বিশেষ করে সিলেটের মানুষের ‘কুটুমবাড়ি’ যাওয়ার মজাটা একেবারেই মাটি হতে বসেছে গ্যাস সঙ্কটের কারণে।

জানা গেছে, দেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস ফিল্ড বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রসহ তিনটি গ্যাসক্ষেত্রে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওই তিনটি গ্যাস ক্ষেত্রে সরবরাহ বন্ধ থাকায় ঈদুল আজহার দিন রাত ১২টা থেকে পরদিন রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা সিএনজি ফিলিং স্টেশনসমূহে বন্ধ রয়েছে গ্যাস সরবরাহ।

দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস বন্ধ থাকার কথা কয়েকদিন থেকে গণবিজ্ঞপ্তি আকারে প্রচার করছে দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সিলেটসহ দেশের কয়েকটি বিভাগে চলমান গ্যাস-সঙ্কটে দুর্ভোগে পড়েছেন লোকজন।

ভূক্তভোগীরা  জানান, প্রতিবছরের মতো এবছরও পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে কুটুমবাড়ি যাচ্ছেন অনেকে। তবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার প্রতিটি রাস্তায় দেখে দিয়েছে গাড়ি সঙ্কট। চলছে গাড়ির জন্য হাকাকার। এ সুযোগে অবশ্য কিছু সুযোগসন্ধানী গাড়ী চালক যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুন ভাড়া আদায় করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা।

ঈদের ছুটিতে পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে আসা ভ্রমণপিপাষুরা পড়েছেন মহা বিপাকে। পর্যটন স্পটে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি মিলছে না কোথাও। মাঝে মাঝে দু-একটা গাড়ি মিললেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেছে তারা।

অবশ্য অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন কুলাউড়া উপজেলার কাটারকোনা বাজারের  কয়েকজন সিএনজি আটোরিকশা চালক।

তারা  বলেছেন, আমরা কষ্ট করে শুক্রবার রাতে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস এনেছি। এই গ্যাস দিয়ে সারা দিন চলতে হবে। তবে যে গ্যাস এনেছি সেটা দিয়ে সারা দিন চলা সম্ভব নয়। এর মধ্যে যে কয়টা ভাড়া মারতে পারবো তাতে ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে হবে।’

শনিবার বেলা ১টায় কটারকোনা সিএনজি স্ট্যান্ডের অটোরিকশা চলাক মতিউর রহমান রাসেল  বলেন, ‘আমার ৩টি সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। একটি আমি নিজে চালাই। কিন্তু গ্যাসের কারণে আমার সিএনজিটি বন্ধ করে রেখেছি।’

এদিকে, শনিবার ঈদের দ্বিতীয় দিন সিলেট এবং সিলেটের বাইরে থেকে অনেক পর্যটক বেড়াতে এসছেন। কিন্তু গ্যাসের অভাবে পর্যাপ্ত সিএনজি না থাকায় তাদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

ঢাকা থেকে মাধবকুণ্ডে আসা পর্যটক রুম্মান  জানান, ‘শনিবার ভোরে আমি কুলাউড়ায় এসেছি। ঢাকা থেকে কুলাউড়ায় আসতে ভাড়া লেগেছে ৫০০টাকা। কিন্তু কুলাড়াউ থেকে মাধবকুণ্ডে যাওয়ার জন্য কোন গাড়ি পাচ্ছি না। আর মাধবকুণ্ডে যাওয়ার জন্য কোনো বাসও নেই। সেখানে সিএনজি অটোরকিশা ও প্রাইভেট কারে যেতে হচ্ছে। এ সুযোগে তারা ভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছে। একটি সিএনজি অটোরিকসার চালক দেড় হাজার টাকা ভাড়া দাবি করছে। তাই আমি মাধবকুণ্ড না গিয়ে কুলাউড়ায় রয়ে গেছি।’

প্রসঙ্গত, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজ করার জন্য ঈদের দিন রাত ১২ টা থেকে পরদির রাত ১২ টা পর্যন্ত দেশের তিনটি গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হওয়া গ্যাস ক্ষেত্রের দুটিই হলো সিলেটে। এগুলো হলো- দেশের সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের ‘বিবিয়ানা’ ও লাক্কাতুরাস্থ সিলেট গ্যাস ক্ষেত্র।

এদিকে, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শুক্রবার রাত থেকেই সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার, আম্বারখানা, মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, উপশহর, টিলাগড়, সুবিদবাজার, মিরাপাড়া, কাজীটুলা, ইলেকট্রিক সাপ্লাইসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস নেই। এছাড়া কিছু কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ থাকলেও চাপ ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। গ্যাস-সঙ্কটের কারণে বাসা-বাড়িতে চুলা জ্বলছে না। এ কারণে রান্নাবান্না হচ্ছে না।

এ অবস্থায় ঈদের আনন্দ অনেকটা মাটি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ভূক্তভোগীরা। ঈদের আনন্দ দূরের কথা নিজেদের বাসা-বাড়িতে বেড়াতে আসা আত্মীয় স্বজনদের নিয়েও বিব্রত অবস্থায় পড়ছেন তারা। চুলায় আগুন না জ্বললে অতিথি-আপ্যায়ন করাবেন কি করে।

নগরীর ইলেকট্রেক সাপ্লাই এলাকার গৃহিনী রহিমা বেগম জানান, সকালে চুলায় দেশলাই দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু গ্যাস  না থাকায় চুলা জ্বালানো যায়নি।

জিন্দাবাজার কাজি ইলিয়াসের বাসিন্দা গৃহিনী সাদিয়া আক্তার জানান, গ্যাস সঙ্কটের কারণে তিনি রান্না করতে পারছেন না। ঈদের সময় হওয়াতে রান্না নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বেশি। কারণ বাসায় বেড়াতে এসেছেন মেহমান। তাদের জন্য খাবর তৈরি করতে কেরোসিনের চুলা ব্যবহার করছেন বলে জানান তিনি।

সুত্রঃ বাংলামেইল

নিউজটি শেয়ার করুন

error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ