জুলাই ১৮, ২০১৫ ৫:০০ অপরাহ্ণ

ঈদের আনন্দ নেই ইলিয়াসের পরিবারে


কুলাউড়া সংবাদ, শনিবার , ১৭ জুলাই ২০১৫ ::

সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হয়েছেন ২০১২ সালে ১৭ এপ্রিল। তার প্রতীক্ষায় এখনও দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ফলে এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের দিন কাটছে নিদারুণ উদ্বেগ ও অসহনীয় যন্ত্রনায়।

মুসলিম জাহানের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। এই আনন্দের দিনেও ইলিয়াসের পরিবারের সদস্যদের নেই কোনো সুখ ও শান্তি। কারণ পরিবারের বটবৃক্ষ ইলিয়াস আলী এখনও নিখোঁজ, আর তাই ইলিয়াস আলীর পরিবারে ঈদের আনন্দের পরিবর্তে বয়ে যাচ্ছে সুখ-দুঃখের বিরহ বাতাস।

এদিকে, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ লুকিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে হয়ে যান নিখোঁজ। আর এর পরেই দুর্যোগ ও দুর্ভোগের ঘনঘটা নেমে আসে তার পরিবারে। যদিও হঠাৎ করে তার খোঁজ মেলে ভারতে। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এখনও দেখা হয়নি তার। তবে কিছুদিন আগে সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ছুটে যান তার কাছে ভারতে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মুক্তি না মেলায় স্বামীকে সেখানে রেখেই তাকে ফিরে আসতে হয় বাংলাদেশে। ফলে খুঁজে পেলেও সালাহ উদ্দিন আহমেদ নিয়ে ঈদ করতে পারছে না তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এ কারণে সালাহ উদ্দিনের পরিবারে ঈদের আনন্দের পরিবর্তে  উপস্থিত হয়েছে বিষাদের কালো ছায়া।

ইলিয়াস আলী ও সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী, ছেলে এবং মেয়েদের এবারের ঈদ উদযাপন কেমন হবে তা জানতে এই দুই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলামেইল। বাংলামেইলকে তারা বলেছেন, যে পরিবারে মূল বটবৃক্ষ থাকে না তারাই মূলত বটবৃক্ষের মর্যাদাটা বুঝতে পারে। অন্য কেউ এর মর্যাদা বুঝতে পারে না। আর আমাদের পরিবারের মূল বটবৃক্ষটা আজ নেই। ফলে তাদের ছাড়া ঈদ উদযাপন করার কথা কল্পনাই করা যায় না।

এ বিষয়ে তাহসিনা রুশদীর লুনা আবেগঝরা কণ্ঠে বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমাদের ঈদ কেমন হবে তা আপনারা ভালো করেই জানেন। বিগত ঈদগুলোর মতোই এবারও নিয়ম রক্ষার ঈদ উদযাপন করছি। প্রতিবারের মতো এবারও গ্রামের বাড়িতে (সিলেট) ঈদ করতে যাবো। আর সেখানে গ্রামের সবার সঙ্গে দেখা করবো এবং এরপর ঢাকায় ফিরে আসবো, এর বাইয়ে অন্য কিছু নয়।’

একই বিষয়ে হাসিনা আহমেদ কান্নাভরা কণ্ঠে বাংলামেইলকে বলেন, ‘আপনারা বুঝতেই তো পারছেন ঈদ উদযাপন এবার আমাদের কেমন হবে। কারন দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে একা থাকবো। আমার ছেলে ও মেয়ে তাদের বাবাকে কাছে পাবে না। তাই এবার ঈদ আনন্দ উদযাপন বলতে আমাদের কিছু নেই।’

অশ্রু ভরা চোখে হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘সবার ঘরে-ঘরে ঈদের আনন্দে ভরে যাবে কিন্তু আমাদের পরিবারে এবার সেই আনন্দের ছোঁয়া টুকু পাবে না। আমার ছেলে ও মেয়ের বাবা এবার তাদের কাছে নেই বলে তারা কোনো কিছু কেনাকাটা করেনি। আমি মা হয়ে এটা কীভাবে সহ্য করি?

 

নিউজটি শেয়ার করুন

164 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ