অক্টোবর ৮, ২০১৫ ৪:৪৭ অপরাহ্ণ

আজ চালু হল সুরমা নদীর উপর কাজিরবাজার সেতু


পূর্ব পাশে ঐতিহ্যবাহী জিতু মিয়ার বাড়ি। আর পশ্চিম পাশ দিয়ে ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে সিলেট নগরীতে প্রবেশ করেছিলেন হযরত শাহজালাল (রহ.)। মধ্যখানে নির্মাণ করা হয়েছে কাজিরবাজার সেতু। বিএনপি সরকারের আমলে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হলেও দীর্ঘ ১০ বছর পর এটি উদ্বোধন করলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে সিলেটবাসীর স্বপ্ন কিছুটা পূরণ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে কাজিরবাজার সেতুটিকে চারলেন বিশিষ্ট ৩৬৬ মিটার দীর্ঘ এবং ১৯ মিটার প্রস্থের অত্যাধুনিক সেতু হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। সেতুটির প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৪৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ২০০৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর সেতুটির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান।

সেতুটির নির্মাণকাজ ২০০৭-০৮ অর্থবছরের মধ্যেই সমাপ্ত করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেতুটির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেতুটির নকশায় ত্রুটি রয়েছে দাবি করে নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু থেকে বিরত থাকে।

পরে ২০১২ সালের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সফরকালে আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় তিনি দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। পরে এ বছর যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কাজীরবাজার সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলে এর বন্ধ্যাত্বের কিছুটা অবসান ঘটে। পরবর্তীতে বরাদ্দও বাড়ানো হয়।

গত মঙ্গলবার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, নবনির্মিত কাজীরবাজার সেতুটি নির্মাণে মোট ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে হয়েছে। ৩৯১ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের মধ্যদিয়ে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূর্ণ হয়েছে।

এদিকে, কাজিরবাজার সেতুটির নির্মাণ কাজ গত ৩০ জুন শেষ হলেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে সেতুটি উদ্বোধন করবেন এমন গুঞ্জন ছিল সিলেটে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী সিলেটে না এসে ঢাকা থেকেই ভিডিও কনফারেন্সে সেতুটির উদ্বোধন করছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সেতুটির উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় তিনি বিমানবন্দ বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি সরারকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার আগে এই সেতু নির্মাণ করার কথা ছিল। কিন্তু সে সময় শুধু প্রকল্প হাতে নেয়ার জন্য প্রকল্প নেয়া হয়ছিল। তখন দুই একটি পিলার তুলেই সেতুর কাজ শেষ হয়েছিল।’

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর সেই সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমারাই দেশের উন্নয়নে কাজ করছি। তাই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সিলেট বিভাগ বাস্তবায়নসহ বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়েছে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমরা করে দিয়েছি। এখন লন্ডন থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সিলেটে অবতরণ করে। এখন সিলেট কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। এটা মহাসড়কে রূপান্তর হয়ে যাবে।’

কাজিরবাজার সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে থাকায় উপস্থিত হতে পরেনি। পরে প্রধানমন্ত্রী অনুমতিক্রমে একটি ভিডিও বার্তা শুনানো হয়। এছাড়াও ঢাকায় যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

এদিকে, সিলেটে জেলা প্রশাসনের সম্মেলণ কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন-সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন। উপস্থিত ছিলেন- সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েছ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

219 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ