সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

আজ কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ কাজের উদ্বোধন করবেন হাসিনা-মোদি


এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথের পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

১০ সেপ্টেম্বর (সোমবার) কুলাউড়া জংশন রেলস্টেশন চত্বরে হবে উদ্বোধন।

সোমবার বিকেলে ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে এ কাজের উদ্বোধন করবেন দুটি দেশের প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথটির দৈর্ঘ্য ৫২ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার। এটি ভারতের আসাম রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। এ রেলপথটি এক সময় ট্রেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ২০০২ সালের ৭ জুলাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এতে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার লোকজন দুর্ভোগে পড়ে যান। পরবর্তীতে রেলপথটির সংস্কারকাজ করে পুনরায় ট্রেন চলাচল চালুর দাবিতে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৬ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৬৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদন হয়। এর মধ্যে ১২২ কোটি বাংলাদেশ সরকারের থেকে আর বাকি ৫৫৬ কোটি টাকা ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে। ওই বছরের (২০১৫) ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথে ছয়টি স্টেশন রয়েছে। সেগুলো হলো, কুলাউড়া, জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঁঠালতলি, বড়লেখা, মুড়াউল ও শাহবাজপুর। রেলপথটি ডুয়েল গেজের হবে। ছয়টি রেলস্টেশনের মধ্যে চারটি বি ও দুটি ডি শ্রেণির হবে। রেলপথটিতে ১৭টি বড় সেতু ও ৪২টি ছোট সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। ভারতের ‘কালিন্দি রেল নির্মাণ’ প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে ভারতের ‘বালাজি রেল রোড সিস্টেমস’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান।

রেলওয়ের ঢাকার প্রধান দপ্তরের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আহসান জাবির জানান-‘ভিডিও সম্মেলনটি নির্ধারিত সময়ে কুলাউড়া জংশন রেলস্টেশন চত্বরে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে সর্বসাধারণকে দেখানোর হবে।’

রেলওয়ের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন- ‘ইতিমধ্যে রেলপথটির শাহবাজপুর প্রান্তে নতুন রেল সেতু নির্মাণের জন্য পুরাতন সেতু ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গেছে। কয়েক মাসের মধ্যেই এ কাজ দৃশ্যমান হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

836 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ