অক্টোবর ৮, ২০১৫ ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

অবিলম্বে ছাত্রসংসদ নির্বাচন চান ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক


দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়সহ যে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ আছে সেসব সংসদে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন।  একান্ত সাক্ষাৎকারে এই অভিমতসহ ছাত্র রাজনীতির নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন দেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠনের এই নেতা।

ছাত্র সংসদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃবৃন্দ চাই অবিলম্বে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদগুলো সক্রিয় হোক। সে লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী স্যারের সাথে বৈঠকও করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি ছাত্র সংসদগুলো সক্রিয় থাকলে দেশের ছাত্র রাজনীতি আরো চাঙা হবে। ভবিষ্যতে দেশে আরো ভালো নেতৃত্ব তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের বড় বড় নেতৃত্ব ছাত্র সংসদ থেকেই তৈরি হয়েছেন। যারা দেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

জাকির হোসেন বলেন, ‘ছাত্র সংসদ গুলো সক্রিয় করার জন্য ছাত্রলীগ কাজ করে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মতো দেশের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হতে পেরে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। এ বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি আসলেই সৌভাগ্যবান কারণ আমি দেশের সবচেয়ে পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।’

‘আমি সেই সংগঠনে কাজ করছি যেটি ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযোদ্ধসহ দেশের সকল স্বাধীকার আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং দিচ্ছে। এটা আসলেই ভাগ্যে ব্যাপার বলে আমি মনে করি।’ যোগ করেন তিনি।

ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি কী ধরনের হবে এ বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমাদের কাজ চালিয়ে যাব। গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত পন্থায় কর্মী সংগ্রহ থেকে শুরু করে সকল কাজ করবো।’

নেতৃত্বের গুণাবলী বৃদ্ধি এবং দক্ষতা তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজ করছি। এই কাজ করার সাথে সাথে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গুলো দিবো। তারপর শুরু হবে সাংগঠনিক সফর, কর্মীসভা এবং বিভিন্ন ধরণের কর্মশালা। যার মাধ্যমে দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি হবে।’

বর্তমান সময়ের ছাত্র আন্দোলনের বিষয়ে এই নেতা বলেন, ‘আমরা বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার সকল আন্দোলনে সম্পৃক্ত আছি। কিছু আগে ঘটে যাওয়া ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছি। আমরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি এই ভ্যাট বন্ধের জন্য এবং সফলও হয়েছি।’

মেডিক্যালে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের সমর্থন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদের যে পরিসংখ্যান দেখিয়েছেন তাতে আমরা মনে করি না এই আন্দোলনের কোনো যুক্তি আছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিসংখ্যানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা মেডিকেলে চান্স পেয়েছে তাদের মাঝে প্রায় সকলের স্কোরই দশে দশ। এবং তারা ভর্তি পরীক্ষায়ও সবচেয়ে ভালো করেছে। নিচের স্কোর ছাড়া অর্থাৎ যাদের আট বা দশের নিচে স্কোর তারাই শুধু অসদুপায় অবলম্বন করার চেষ্টা করে।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা আমাদের তৈরি করার কারিগর। তারা না থাকলে হয়তো আমি আজ ছাত্রনেতা হতে পারতাম না। তাই তাদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে কোনো আন্দোলন না করার জন্য। সরকার যথেষ্ট সচেতন। ভালো সমাধান নিশ্চয়ই আসবে।’

তরুণদের উদ্দেশে ছাত্রনেতা জাকির হোসেন বলেন, ‘বর্তমান যুগ ডিজিটালের যুগ। তাই তরুণদের আরো ডিজিটালাইজড হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। রাজনৈতিকভাবে আরো সচেতন হতে হবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই কারণ তিনি তরুণদের উদ্দেশে তার পুরস্কার উৎসর্গ করেছেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ