আগস্ট ৩০, ২০১৫ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

অধিক আয়, অজ্ঞান পার্টি থেকে কিডনি পাচারকারী!


রাজধানীতে আন্তর্জাতিক কিডনি পাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের সদস্যরা এর আগে অজ্ঞান পার্টির সদস্য ছিল। বেশি আয় করার মিশন নিয়েই তারা যোগ দেয় কিডনি পাচারকারী দলে। চক্রের অন্যতম হোতা আব্দুল জলিলই অন্য সদস্যদের পেশা বদলের জন্য প্ররোচিত করে।

আব্দুল জলিল ১০ বছর ধরে গ্রামের দরিদ্র মানুষকে প্ররোচিত করে, লোভ দেখিয়ে ঢাকায় এনে কিডনি সংগ্রহ করে পাচার করার কাজ করছে। সে এই কাজ করতে অনেকবার ভারতে গিয়েছিল বলেও গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছে।

কয়েক বছর আগে তার সঙ্গে পরিচয় হয় অজ্ঞান পার্টির সদস্য শেখ জাকির ইবনে আজিজ ওরফে শাকির, আশিকুর রহমান ওরফে জেবিন, ফজলে রাব্বি ও জিহান রহমানের। এরপর জলিল তাদের অজ্ঞান পার্টির কাজ ছেড়ে কিডনি পাচারের কাজে যোগ দেয়ার জন্য বলে। এরাও তার কথায় রাজি হয়ে কিডনি সংগ্রহ এবং কেনা বেচার কাজে যোগ দেয়। আব্দুল জলিলসহ অপর চারজনকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এই চক্রের হাত থেকে দু’জন ভুক্তভাগীকেও উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। দুই ভুক্তভোগী হলেন আবু হাসান ও শান্ত। আবু হাসানের গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটে, আর শান্তর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলায়।

গ্রেপ্তারের পর এই চক্রের সদস্যরা জানিয়েছে, এই চক্রটি গ্রামের সহজ সরল ব্যক্তিদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসতো। এরপর চেতনা নাশক ঔষধ দিয়ে শরীর থেকে কিডনী কেটে নিতো।
পুলিশ ধারণা করছে, এই চক্রে বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরাও যুক্ত রয়েছেন। তবে এই বিষয়ে এখনো তারা পুলিশকে কিছু জানায়নি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্মকমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই অপরাধের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকের ডাক্তাররা জড়িত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরো বিস্তারিত জানা যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

224 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ