অক্টোবর ১৮, ২০১৬ ২:৫৩ অপরাহ্ণ

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা


টেন্ডার নিজেদের আয়ত্তে নিতে না পারায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজসহ তিন শীর্ষ কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন কয়েকজন কাউন্সিলর।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এ ঘটনা ঘটে। তবে তালা লাগানোর সময় সিসিকের এই কর্মকর্তা কার্যালয়ে ছিলেন না।  বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অন্য কাউন্সিলররা।

সিসিক সূত্র জানায়, বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র থাকাকালে গত বছরের প্রথম দিকে সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন লালদীঘিরপাড় সিটি সুপার মার্কেটের ঝুঁকিপূর্ণ এবিসি ব্লক ভাঙার দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু সে সময় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়। উচ্চ আদালতে রিটের রায় সিসিকের পক্ষে আসে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বুঝিয়ে দিতে চাইলে বাধা হয়ে দাঁড়ান কয়েকজন কাউন্সিলর। তারা সমঝোতার মাধ্যমে এক কোটি ৫ লাখ টাকায় কাজ বাগিয়ে নিতে চান।

কিন্তু এতে সিসিকের ওই তিন শীর্ষ কাউন্সিলরের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় কাউন্সিলররা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজ ও হিসাবরক্ষক আ ন ম মনছুফের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলেন।

বিকেলে আওয়ামী লীগ নেতা, কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, আজাদুর রহমান আজাদ, আবজাদ হোসেন আমজদা, রফিকুল ইসলাম ঝলক, মুস্তাক আহমদ, মখলিছুর রহমান কামরান, ইলিয়াসুর রহমান ইলিয়াছ, বিএনপি নেতা কাউন্সিলর সিকন্দর আলী ও সাইফুল আমিন বাকেরসহ ১০ জন কাউন্সিলর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে কার্যালয়ের কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।

সিসিক সূত্র আরো জানায়, সোমবার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩২ গ্রুপে ২২ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডারের এই কাজ পেয়েছেন আন্দোলনরতদের প্রত্যেকের ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ দেয়া হয়েছে। কিন্তু উন্নয়ন কাজ না পাওয়ার অভিযোগ তুললেও মূলত এক কোটি ৫ লাখ টাকায় সিটি মার্কেট ভাঙ্গার টেন্ডারের কাজ তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তারা।

সিসিকের ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ বলেন, কম মূল্যে টেন্ডার না দেয়ায় সিসিকের কয়েকজন কাউন্সিলর ক্ষুব্ধ হয়ে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় তালা দেন।

তবে সিসিকের মার্কেট ভাঙ্গার দরপত্রের বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ২৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদ বলেন, কাউন্সিলরদের মতামত উপেক্ষা করে কর্মকর্তারা নিজের ইচ্ছে মতো কাজের দরপত্র আহ্বান করেন। সম্প্রতি ৩২ গ্রুপের টেন্ডার করা হয়েছে একই কায়দায়। নিময় বহিঃভূতভাবে কাজ করাসহ তাদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই তিন কর্মকর্তার কক্ষ তালাবদ্ধ করেছেন কাউন্সিলররা।

সিসিকের কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন জানান, মেয়র না থাকায় সিটি কর্পোরেশন চালাচ্ছেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তারা ওয়ার্ডেরে উন্নয়ন কাজ প্রকল্প জমা দিলে গুরুত্ব বিবেচনা না করে ইচ্ছেমতো কাজের টেন্ডার করান। যে কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আওয়ামী লীগের দলীয় ১০/১২ জন কাউন্সিলর কর্মকর্তাদের কক্ষে তালা ঝুলান। বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জানানো হবে।

তবে কাউন্সিলরদের অভিযোগ সঠিক নয় জানিয়ে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান, নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ দারদাতা প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে। সেখানে কমমূল্যে কাজ দিয়ে দেয়ার অন্যায় আবদার মেনে না নেয়ায় তারা তালা দিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হয়ে আমি সরকারের ক্ষতি করতে পারি না। প্রয়োজনে পুনঃরায টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

552 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ