ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৬ ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

সিলেট বিএনপির সম্মেলন বানচালে মরিয়া শীর্ষ নেতারা


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৭ ফেরুয়ারি এ সম্মেলেন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। কিন্তু সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির এই সম্মেলন বানচাল করতে দলের সুবিধাভোগী শীর্ষ নেতারা মরিয়া হয়ে ওঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

যে কোনো মূল্যে সম্মেলন পণ্ড করতে সিলেটের কয়েকজন শীর্ষনেতা ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থান করেছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সবশেষ সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর। ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াছ আলী এ সম্মেলের আয়োজন করেছিলেন। দীর্ঘ ৬ বছর পর আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুধু জেলা বিএনপি নয়, একই দিনে সিলেট মহানগর বিএনপির সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে লক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতিই নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে সিলেট জেলা বিএনপিতে সভাপতি পদে আবুল কাহের শামীম ও সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ, কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান ও আব্দুল মান্নান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এমরান আহমদ চৌধুরী, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি সিদ্দীকুর রহমান পাপলু, কারাবন্দী ছাত্রনেতা আব্দুল খান জামাল ও অ্যাডভোকেট হাসান পাটোয়ারি রিপন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মহনগর বিএনপির কাউন্সিলে সভাপতি পদে ডা.শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, নাছিম হোসাইন ও আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকি, সাধারণ সম্পাদক পদে বদরুজ্জামান সেলিম, ফরহাদ চৌধুরী শামীম ও রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর শাহিন, মিফতা সিদ্দীকি, এমদাদ হোসেন চৌধুরী, আজমল বক্ত সাদেক, সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, মাহবুব চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।

তবে দলীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সম্মেলন বানচাল করতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বয়ক আবুল কায়ের শামীমসহ কয়েকজন সুবিধাবাদী নেতার ইশারায় মহানগর বিএনপরি সাবেক সভাপতি এমএ হক এ মুহূর্তে ঢাকায় অবস্থান করেছেন। শেষ মুহুর্তেও যেন সম্মেলন পণ্ড করা যায় সে চেষ্টায় তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে এম এ হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকায় অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে কি জন্য তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন সে বিষয়য়ে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সিলেট বিএনপির সম্মেলন নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ওই নেতা বলেন, ‘আমি সিলেটের রাজনীতি থেকে অব্যহতি নিয়েছি। তাই এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।’

আবুল কাহের শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে, দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আটঘাঁট বেঁধে নামার নির্দেশ দেন। কিন্তু আন্দোলনের মাঠে সিলেট বিএনপির নেতাদের খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর। জেলা ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির ৪৩ নেতার মধ্যে ২০ জনেরই দেখা মিলেনি।

সূত্র জানিয়েছে, খালেদার ডাকা আন্দোলনে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১০ সদস্যের মধ্যে ৫ জনই আাত্মোগোপনে ছিলেন। খোদ আহবায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক দিলদার হোসেন সেলিম, আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, অ্যাডভোকেট আব্দুল গফফার ও সিনিয়র সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনাই আন্দোলনে রাজপথে নামেননি। তবে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক, সামসুজ্জামান জামান, আলী আহমদ, এমএ মান্নান ও এমরান আহমদ চৌধুরী সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিলেন।

অন্যদিকে মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির ৩৩ সদস্যের আহবায়ক কমিটির ১৯ জনই আন্দোলনের মাঠে ছিলেন না। এছাড়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন না মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এমএ হক, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক মকসুদ আলী, আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, অ্যাডভোকেট নোমান মাহমুদ, ফয়জুর রহমান জাহেদ, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, একেএম আহমদ উস সামাদ, আব্দুর রহিম, হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, ফরহাদ চৌধুরী শামীম, ওমর আশরাফ ইমন, সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, সৈয়দ মঈন উদ্দিন সুহেল, আলা উদ্দিন, বদরুন নুর সায়েক ও আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

আন্দোলনে যাদের রাজপথে দেখা গেছে তারা হলেন- সদস্য সচিব বদরুজ্জামান সেলিম, সদস্য নাসিম হোসাইন, হাবিবুর রহমান হাবিব, হুমায়ুন কবীর শাহীন, আজমল বখত সাদেক, মিফতাহ সিদ্দিকী, এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, মাহবুব চৌধুরী, ডা. নাজমুল ইসলাম, মুর্শেদ আলম মকুল ও আব্দুল জব্বার তুতু।

তবে মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে ছিলেন। এছাড়া দল থেকে পদত্যাগকারী শমসের মবিন চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীও জেলে ছিলেন।

সূত্র জানিয়েছে, অতীতে যারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না তারাই সম্মেলন বানচাল করার চেষ্টা চলাচ্ছেন। তবে সম্মেলন সফল করতে মরিয়া আন্দোলনে সক্রিয়াভাবে অংশগ্রহণকারীরা।

তারা বলছেন, যে কোনো মূল্যে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সম্মেলন সফল করা হবে। সম্মেলনের জন্য সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।

সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহমদ  বলেন, ‘আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রার্থীরাও নিজ উদ্যোগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিচ্ছেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ