ডিসেম্বর ২০, ২০১৬ ২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সিলেটে মোবাইল ফোনে প্রতারণার ভয়ঙ্কর ফাঁদ!


অপরিচিত নাম্বার থেকে আসে ফোন। ওপ্রান্তে নিজেকে পরিচয় দেওয়া হয় সিলেটের ‘এডিসি জেনারেল’ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী হিসেবে। বলা হয় ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী আপনাকে খুঁজছেন’। এরপর ‘স্বাস্থ্য সচিবের’ নাম্বার দিয়ে দ্রুত যোগাযোগ করতে বলা হয়। ‘স্বাস্থ্য সচিব’ একটি ‘লাশের’ কথা বলে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের একটি নাম্বার দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। ‘আঞ্জুমানে মফিদুল’ থেকে ‘লাশ ছেড়ে দেওয়ার জন্য’ চাওয়া হয় টাকা। ঠিক এভাবেই ভয়ঙ্কর এক প্রতারকচক্র ঘিরে ধরেছে সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের।

গত কয়েকদিনে প্রতারকচক্র তাদের ফাঁদে ফেলতে চেয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম, আবদুর রকিব তুহিন, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, আবদুল মুহিত জাবেদ, এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল ও জাহানারা খানম মিলনসহ কয়েকজন।

জানা যায়- মোবাইলে ফোন দিয়ে বিভ্রান্তিতে ফেলে কাউন্সিলরদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা করছে একটি চক্র। সিমকার্ডের বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের পরও প্রতারকচক্রের এরকম অপকর্মে ক্ষুব্দ কাউন্সিলররা।

ভুক্তভোগী এসব কাউন্সিলর সিলেটভিউ২৪ডটকমকে জানান, গত কয়েকদিন থেকে ০১৭১৬৪৮৫৪৮৯ ও ০১৭৩৩৪৫৭৩৮৬ নাম্বার থেকে কাউন্সিলরদের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে ফোন আসে। ওপ্রান্ত থেকে নিজেকে সিলেটের ‘এডিসি জেনারেল’ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলে পরিচয় দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিমের কথা বলে ভুয়া এই এডিসি কাউন্সিলরদেরকে ০১৭১৫০০৭২৬৬ নাম্বারে ‘স্বাস্থ্য সচিবের’ সাথে যোগাযোগ করতে বলে।

ফোন করার পর ‘স্বাস্থ্য সচিব’ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি বলেন, ‘আপনার ওয়ার্ডের একটি ছেলে (কখনো মেয়ে) স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসায় কাজ করতো। তার মা (কখনো বাবা) ঢাকায় দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তার লাশ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামে রাখা হয়েছে। লাশটি দাফনের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলরের নামে দুই লাখ টাকার একটি চেক পাঠানো হচ্ছে। লাশের সাথে যাওয়া পুলিশের কাছ থেকে ওই চেকটি সংগ্রহের পরামর্শ দিয়ে কথিত ওই স্বাস্থ্য সচিব লাশ সিলেটে নেয়ার জন্য আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগর জন্য দেয়া হয় ০১৭৭৮২১৩৬৫৫ নাম্বার। সেখানে ফোন দেওয়া হলে বলা হয়, ‘লাশ নেওয়ার জন্য ওই নাম্বারে বিকাশ করে টাকা (কখনো ২৪ হাজার, কখনো ২৮ হাজার) পাঠিয়ে দিন।’

গোটা এই বিষয়টা কাউন্সিলরদের কাছে রহস্যজনক মনে হওয়ায় তারা যখন উল্টো জেরা শুরু করেন, তখনই প্রতারকচক্র ফোন ধরা বন্ধ করে দেয়। বার বার চেষ্টা করেও তাদেরকে আর ফোনে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে প্রথমে কাউন্সিলর ফরহাদ শামীম প্রতারকচক্রের ফাঁদের বিষয়টি বুঝার পর অন্যান্য কাউন্সিলরদের জানিয়ে দেওয়ায় কোনো কাউন্সিলরই তাদের ফাঁদে পা দেননি।

এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা এডিসি জেনারেল শহীদুল ইসলামের সাথে কথা বলেছেন। তিনি প্রতারণার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার চেষ্টার ঘটনায় তিনি বিব্রতবোধ করছেন বলেও কাউন্সিলররা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

509 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ