জানুয়ারি ১৪, ২০১৭ ২:৩১ পূর্বাহ্ণ

যেভাবে সিলেটে প্রতারণার ফাঁদ পাতে ‘বিকাশ’ প্রতারকরা.


টাকা লেনদেনের অন্যতম মাধ্যম ‘বিকাশ’। এই পদ্ধতির সহজলভ্যতার কারণে কম সময়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ফলে ক্রমেই তাদের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের আনাচে কানাচে। তবে মানুষের এ ‘জনপ্রিয়তা’কে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের মোবাইলে ‘ক্যাশইন’ এর মেসেজ পাঠিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে এক শ্রেণির প্রতারকরা। অভিনব এ প্রতারণার মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

সূত্র বলছে, বিকাশে প্রতারনার কবলে পড়েছেন অনেকেই। বিভিন্ন আঙ্গিকে একের পর এক প্রতারনার ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত এই চক্রের হোতা বা জড়িতদের রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় সংঘবদ্ধ এই চক্রটি অবলিলায় চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অপকর্ম।

তবে সম্প্রতি সিলেটে বিকাশ প্রতারনা চক্রের তিন সদস্যকে হাতে-নাতে আটক করেছে র‌্যাব। এসময় প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের ৭টি মোবাইল সেট এবং বিকাশের ট্রানজেকশন রেজিস্টার জব্দও করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে কথিত বসের নামও। তাছাড়া কিভাবে তারা প্রতারণার ফাঁদ পাতেও সেবিষয়ে বিস্তারিত জানায় তারা।

জিজ্ঞাসাদের পাওয়া তথ্যে ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ এর এএসপি ও মিডিয়া কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র সরকার জানান-  প্রতারক চক্রের ৩/৪ জনের ০১টি দল থাকে যারা বিভিন্ন বিকাশের দোকানে গিয়ে কৌশলে বিকাশের ডেইলী ট্রানজেকশন রেজিস্টার হতে যে যে মোবাইল নাম্বারে টাকা পাঠানো হয় তার ০১টি ছবি তুলে নিয়ে যায়। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইলে ধারণকৃত ছবিগুলো তাদের কথিত বস নাজমুলের মোবাইলে পাঠায়। পরবর্তীতে কথিত ‘বস’ ওই নাম্বারে ০১টি ভূয়া মেসেজ পাঠায় যাতে মোবাইল ইনবক্সের মেসেজে টাকার পরিমাণ দেখানো হয় কিন্তু বিকাশ একাউন্টে কোন টাকা জমা হয় না, যা সাধারণ জনগন বুঝতে পারে না।

পরবর্তীতে ওই নাম্বারে ফোন দিয়ে বলে আপনার মোবাইলে ভুলে দুইবার টাকা চলে গেছে এবং এই বলে টাকা ফেরৎ চায়। সাধারণ জনগণ সরল বিশ্বাসে টাকা ফেরৎ দেয় এবং পরবর্তীতে যখন দেখে যে তার বিকাশ একাউন্ট থেকে টাকা চলে গেছে তখন বুঝতে পারে তার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এই চক্রটি ক্যাশ আউট, মানি ট্রানজেকশন, সেন্ড মানি, পেমেন্ট শব্দগুলোর সাথে সাধারণ জনগন সম্পূর্ণ অবগত না হওয়ায় এই পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতারণা করে। সম্পূর্ণ কাজটি তারা সুকৌশলে করে থাকে।

র‌্যাব জানিয়েছে- প্রতারক চক্রটি বৃহত্তর সিলেটসহ ঢাকা ও বিভিন্ন শহরে তাদের প্রতারনার জাল বিছিয়ে রেখেছে। সাধারণ মানুষ এভাবে প্রতিনিয়ত এরূপ চক্রের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে, যা কোনভাবে কাম্য নয়। এ ব্যাপারে জনসাধারণকে সচেতন থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

527 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ