ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫ ৯:২১ অপরাহ্ণ

পাকিস্তানের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করুন: জাফর ইকবাল


পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সব ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ‘সংবাদপত্রে মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনে পরিদর্শন শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় তিনি এই দাবি জানান।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়  দেশে যে ৩০ লাখ মানুষ মারা গেছে, দুই থেকে চার লাখ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং প্রায় এককোটি মানুষকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে তা পৃথিবীর অনেক দেশই বিশ্বাস করতে চায় না। ওই সময়ে স্বাধীনতার বিরোধীতাকারীদের অনুসারীরা এখনো সক্রিয়। তারা মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস তোমাদের সামনে তুলে ধরে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। সাবধান, তাদের ফাঁদে পা দিবে না।

তোমরা তোমাদের সময় এবং শক্তি ব্যয় করবে তোমাদের জন্য এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। তোমরা যদি এই প্রদর্শনীর এক দিক দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দিক দিয়ে বের হও তাহলে তোমাদের মধ্যে একটি অন্য রকম অনুভূতির সৃষ্টি হবে এবং  ওই সময়ের কবে কি হয়েছে তা জানতে পারবে।

এখন থেকে আমাদের একটা আন্দোলন করতে হবে- সেটা হবে প্রথমত পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রাখবো না আমরা, আর দ্বিতীয় দাবি হবে ১৯৫ জন যুদ্দাপরাধীদের বিচার করা। পাকিস্তান এখন অপরাধ স্বীকার করেনা। পাকিস্তান এখনও বলে যাচ্ছে যে একাত্তরে এখানে কোন কিছু করেনাই, এটা এক ধরণের নির্বুদ্ধিতা। এরা মিথ্যাবাদী। যদি আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আন্দেলন শুরু করি, কথা বলতে শুরু করি, তাহলে এদেরও বিচার করা সম্ভব। তোমরা কত  সৌভাগ্যবান তোমাদের পাকিস্তানে জন্ম হয়নি, স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম হয়েছে। তোমাদের পরাধীনতা ভোগ করতে হয়নি।

অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, যতবার বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখি এবং ভাষণগুলো শুনি তখনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের মাঝে নতুন করে জেগে উঠে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সংবাদগুলো নিয়ে এই আয়োজনকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার ইচ্ছে করছে সময় নিয়ে পুরোটা পড়ি। তোমরা যারা তরুণ, দেশকে ভালবাসো তোমার অবশ্যই এই প্রদর্শনী থেকে আরো বেশী অনুপ্রাণিত হবে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের  চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের আহ্বায়ক অধ্যাপক শাসুল আলম বলেন, আমি যখন আমার ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথাবলি তখন দেখি তাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে না। আমাদের দেশে এমনও ঘটনা ঘটেছে যাদের হাতে মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হয়েছেন সেই রাজাকার মন্ত্রীদের গাড়িতেও দেশের পতাকা উড়েছে। যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

স্বাধীনতার পর একটি গোষ্ঠী আমাদের ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্ঠা করেছে। সেই চক্রটি এখনো সক্রিয়। তাই তোমারা যারা দেশকে ভালবাসো, স্বাধীন বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ববোধ করো এই প্রদর্শনী তোমাদের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গণি বলেন, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরা আমাদের দেশে যে হত্যাকান্ড চালিয়েছিল তা নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে।

শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন বলেন, প্রদর্শনী যে  সংবাদগুলো রয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জীবন্ত দলিল। এর থেকে অনেক কিছু জানার ও শিক্ষার আছে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব আয়োজিত তিনদিনব্যাপি ‘সংবাদপত্রে মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনে আরো পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের আহ্বায়ক অধ্যাপক আকতারুল ইসলাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সাজেদুল করিম, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গোলাম আলী হায়দার, প্রথম ছাত্রীহলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আমেনা পারভিন,নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

293 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ