জুন ২২, ২০১৫ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ছাতক পৌর মেয়রের গাড়িতে হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত উপজেলা : সংঘর্ষ ও উত্তেজনা


ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার মামলায় আ’লীগ নেতা আমির আলীসহ ৩জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় বিবদমান আ’লীগের দু’গ্রুপের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন উপজেলাবাসী। শনিবার সন্ধ্যায় আ’লীগ নেতা আমির আলীসহ ৩জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার ব্যবসা প্রতিষ্টান ইতি টেলিকমে অভিযান চালিয়ে একটি শর্টগানসহ বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতাকৃত আ’লীগ নেতা পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর সমর্থক বলে জানা গেছে। এ ঘটনার জের ধরে রোববার দুপুরে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জে পার্কিংরত ছাতক পৌর মেয়র আ’লীগ নেতা আবুল কালাম চৌধুরীর ব্যবহৃত পাজেরো গাড়ি ভাংচুর করেছে এমপি মুহিবুর রহমান মানিক গ্রুপের যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ছাতক পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর ‘কালাম গ্রুপ’ ও সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সমর্থনপুষ্ট মানিক গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জে দু’ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এঘটনার পর এমপি মানিকের গ্রুপের ছাত্রলীগ নেতা তজম্মুল আলী রিপন বাদি হয়ে ছাতক থানায় কালাম গ্রুপের আ’লীগ নেতা আমির আলীকে প্রধান আসামী করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করে। এ মামলার প্রেক্ষিতে রোববার বিকেলে আওয়ামীলীগ নেতা আমির আলীসহ ৩জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ’র উপস্থিতিতে ইতি টেলিকমে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি শর্টগানসহ ১৪টি রামদা ও বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে দোকানটি সিলগালা করে দেয়। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুন্দর আলীসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জে পৌর মেয়র ও আবুল কালাম চৌধুরীর ব্যবহৃত পাজেরো জীপ (ঢাকা মেট্রো-১৩-৯৫০৯) ভাংচুর করেছে প্রতিপক্ষ এমপি মুহিবুর রহমান মানিক গ্রুপের ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা। এঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মেয়র সমর্থিত আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা ছাতক শহরের কোর্ট রাস্তা ও সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের জাউয়াবাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এ সময় জাউয়াবাজারে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে শহরে উপজেলা আ’লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাংশের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়। উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি আবরু মিয়া তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত প্রতিবাদ বক্তারা মেয়র কালাম চৌধুরীর গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় দায়ী এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ও উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলকে ছাতকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা ও ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরীকে অপসারনের দাবী জানান। এব্যাপারে ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, মেয়র কালাম চৌধুরীর গাড়ি ভাংচুরের সাথে জড়িত সন্দেহে ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে গোবিন্দগঞ্জ এলাকাবাসী জানিয়েছেন গ্রেফতারকৃত ৬জনের মধ্যে অধিকাংশই নিরীহ পথচারি। তারা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

171 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ