মার্চ ১৩, ২০১৯ ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট,ড.কামাল হোসেন এবং সুলতান মনসুরের সংসদে যোগদান ও বর্তমান বাস্তবতা


এস আর অনি চৌধুরী::
বিশিষ্ট আইনজ্ঞ,সংবিধান প্রণেতা,জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলক ডা.কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন ও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি সহ বিভিন্ন জোটের ঐক্যফ্রন্টে যোগদান ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আব্দুর রহমানের কিছু কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে হুবুহু তুলে ধরা হলো।

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যতম সর্ব বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যখন ভোট বর্জন করে তখন ৩০০ টি সংসদীয় আসনের বেশির ভাগ আসনেই বিনা ভোটেই আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। আর এই কঠিন অবস্থায়ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ পুরো ৫বছরই নেতৃত্বদেয়।

এবার আসা যাক একাদশ জাতীয় নির্বাচন ও ঐক্যফ্রন্টে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঠিক আগ মুহূর্তে অনেকটাই তড়িঘড়ি করেই ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যখন নির্বচনকালীন বৃহৎ ঐক্য গঠনের আহবান করা হয়, তখন দেশে অন্যতম সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি, গনফোরাম, আ.স.ম রব এর জেএসডি,বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকির কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ,মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য আর একজন আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে সেই ফ্রন্টে শুরু থেকে যুক্ত থাকেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ।

এবার আসা যাক ঐক্যফ্রন্টে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের অবস্থানে, ঐক্যফ্রন্টের শুরু থেকে তিনি একজন বঙ্গবন্ধুর কর্মী,একজন আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে দাবি করে আসছেন।

ঐক্যফ্রন্টের সিলেটের প্রথম সমাবেশে যাওয়ার পূর্বে যখন তিনি রোজভিউ হোটেল থেকে গায়ে মুজিব কোর্ট পড়ে বের হয়েছিলেন ঠিক তখনই বিএনপি সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাকে দেখে মন্তব্য করেছিলেন সুলতান ভাই আপনাকে দেখে পুরো বঙ্গবন্ধু মনে হচ্ছে, তখনো তিনি উত্তর দিয়েছিলেন আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে কখনও বিচ্যুত হই নাই আর হবো না। আর আমি আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে ঐক্যফ্রন্টে আছি। তখন সবাই বলেছিলো এটাই হলো প্রকৃত বঙ্গবন্ধু প্রেমিকের কথা।

যখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ছিলো আওয়ামীলীগ ছাড়া কিভাবে জাতীয় ঐক্য হয় তখন অনেকেই উদাহরণ টেনেছিলেন সুলতান মনসুরের। আর সুলতান মনসুর সব মঞ্চেই বলেছেন আমি বিএনপি করি না, করবোও না। আমি একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হিসেবে মনে করি বেগম খালেদা জিয়া যদি অন্যায়ও করে থাকেন অন্তত তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর মজার জিয়ারত করেছেন সেই কথা বিবেচনা করে হলেও তার মুক্তি দেয়া উচিৎ। এবং তিনি লক্ষ লক্ষ বিএনপি নেতাকর্মীদের সামনে পল্টনের সমাবেশে বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে বক্তব্য শেষ করেছিলেন।

তিনি নির্বাচনী প্রতিটি মঞ্চেই একই কথাই বলেছিলেন ধানের শীষ এক সময় মওলানা ভাসানীর ন্যাপের মার্কা ছিলো, ৭৫ পরবর্তী সময়ে সেটা বিএনপির মার্কা হয়েছে আর এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মার্কা।

আর মার্কা উন্নয়ন করে না, ব্যক্তি উন্নয়ন করে, যদি মনে করেন আমাকে দিয়ে কুলাউড়ার অবহেলিত মানুষের উন্নয়ন হবে তাহলে আমাকে ভোট দেবেন আমি নির্বাচিত হলে একা হলেও সংসদে যোগ দিয়ে আপনাদের কথা বলবো।

আর সেই কথা আমলে নিয়ে যেখানে কখনও ধানের শীষ প্রতীক পাশ করে নাই বরং অনেকবার জামানত হারিয়েছে সেখানেই মানুষ ব্যক্তি সুলতান মনসুর কে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করছে।

নির্বাচনের পর থেকেই ড.কামাল হোসেনের সংসদে যাওয়ার ইতিবাচক মনোভাবে তিনি বলে আসছেন তিনি জনগনের রায় কে মেনে নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন কিন্তু হঠাৎ করেই ড.কামাল হোসেন তার মনোভাব পরিবর্তন করলেও তিনি তার সিদ্ধান্ত অবিচল থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ শপথ গ্রহন করেন। আর আজ যারা ড.কামাল হোসের মন্তব্যে উচ্ছ্বাসিত কয়েক মাস আগেও তাদের অনেককে বিভিন্ন কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিলো।

আসলে কারো মন্তব্য বা কারো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া নিয়ে উচ্ছ্বাসিত না হয়ে বিএনপির মতো একটি বৃহৎ দল তাদের নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ কারন প্রায় ১৪ মাসের উপরে এখনও দেখার মতো একটি মানববন্ধনও করতে না পারায় তাদের সাংগঠনিক দূর্বলতা ক্রমাগত ফুটে উঠছে।

লেখক
আব্দুর রহমান,
দপ্তর সম্পাদক, হৃদয়ে৭১ফাউন্ডেশন


413 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ