অক্টোবর ২৯, ২০১৬ ৪:১৭ অপরাহ্ণ

ভালো সূচনার পরও দ্রুত ফিরে গেলেন তামিম-মুমিনুল


প্রথম ইনিংসে তাদের দু’জনের ব্যাটে ভর করেই বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল আর মুমিনুল হক মিলে গড়লেন ১৭০ রানের বিশাল জুটি। এই এক জুটির পরই অবশ্য তাসের ঘরের মত ভেঙে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

সেই তামিম আর মুমিনুল দ্বিতীয় ইনিংসে এক সাথেই হতে পারলেন না। জুটি বাঁধা তো দূরে থাক, ২৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। তামিম আর ইমরুল মিলে বিনা উইকেটেই গড়েন ৬৫ রানের জুটি। এরপরই অবশ্য অভিষিক্ত জাফর আনসারির বলে অ্যালিস্টার কুকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তামিম। ৪৭ বলে খেলেছেন ৪০ রানের ইনিংস। ছিল ৭টি বাউন্ডারির মার।

ইংলিশ বোলারদের উল্টো ভড়কে দিতেই হয়তো ঝড়ো গতিতে ব্যাট করার শুরু করেছিলেন তামিম। তাতে কিছুটা যে সতর্ক হওয়াও প্রয়োজন ছিল সেটা মুহূর্তের জন্য ভুলে গেলেন। তাতেই কর্ম সারা। ব্যাটের কানায় লাগিয়ে লেগ স্লিপে সহজ ক্যাচ তুলে দিলেন কুকের হাতে।

আগের ইনিংসে ৬৬ রান করা মুমিনুল নামলেন এক বুক ভরসা নিয়ে; কিন্তু মাঠে নেমে থিতুই হতে পারলেন না তিনি। নিজের প্রথম বলে নিয়েছিলেন এক রান। পরের ওভারে স্ট্রাইকে এসে মোকাবেলা করতে গেলেন বেন স্টোকসকে। দারুণ এক রিভার্স সুইং দিলেন স্টোকস।

লাইনে পড়ে আউট সুইং করে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার মুখেই ব্যাটের খোঁচা লাগালেন মুমিনুল। সোজা ব্যাট চুমি দিয়ে বল চলে গেলো প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো কুকের হাতে। ৬৬ রানের মাথায় পড়লো দ্বিতীয় উইকেট। ১৭০ রানের জুটি, দ্বিতীয় ইনিংসে কেবলই হতাশা উপহার দিলো। পর পর দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস।

এ রিপোর্ট লেখার সময় বাংলাদেশের রান ১৮ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ৯০। ইমরুল কায়েস উইকেটে রয়েছেন ২৪ রানে। তার সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ রয়েছেন ২০ রানে।

অথচ প্রথম ইনিংসে অন্তত ৪০-৫০ রানের লিডের স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন সম্ভবের দ্বারপ্রান্তেও চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ; কিন্তু ইংল্যান্ডের লেট অর্ডারে দুই ব্যাটসম্যান আদিল রশিদ আর ক্রিস ওকস সেই স্বপ্ন ভেঙে খান খান করে দিলো। ৯৯ রানের জুটি গড়ে উল্টো ইংল্যান্ডকেই ২৪ রানের লিড এনে দিল তারা দু’জন।

শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে যবনিকাপাত ঘটলো ইংল্যান্ডের। ২৪৪ রানে অলআউট হলো সফরকারীরা। ২৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামলো বাংলাদেশ।

ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক আক্রমণের সূচনা করলেন পেস আর স্পিন মিলিয়ে। স্টিভেন ফিন আর মঈন আলিকে দিয়ে শুরু করালেন দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণ। দুই প্রান্তে দুই ধরনের বোলিং। তাতে অবশ্য দমে গেলেন না প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল। বরং, ইমরুল কায়েসকে নিয়ে শুরু থেকে খড়্গহস্ত হলেন ইংলিশ বোলারদের ওপর।

দুই ওপেনার তামিম-ইমরুল মিলে দ্বিতীয় ইনিংসে ভালোই সূচনা এনে দিলেন বাংলাদেশকে। ইংল্যান্ডের নেয়া ২৪ রানের লিড শুধু পারই হননি। দ্রুত বাংলাদেশকেও লিড এনে দিলেন তারা দু’জন। ৬৫ রানের জুটি গড়ার পরই তামিমের এক ভুলে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য হন এ দু’জন।

নিউজটি শেয়ার করুন

181 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ