ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৬ ৬:৪০ অপরাহ্ণ

ইসলাম , বাংলাদেশ এবং নাস্তিক ?


লিখেছেন : শাহ আহমদ সাজ :: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর আমাদের বাংলাদেশ,শান্তির দেশ এবং ৪টি সম্প্রদায়ের মিলনমেলা এখানে, এইখানে যেমন –মসজিদ রয়েছে ,তেমনি রয়েছে মন্দির,গীর্জা । সকলের মধ্যেই রয়েছে নিজ নিজ ধর্ম প্রীতি। প্রবাসে যখন কথা হয় ভিনদেশীদের সাথে তখন বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশংসা করলে গর্বে বুক ভরে যায় । ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম, ইসলাম আমাদের শান্তি প্রতিষঠা করতে শিখায়, আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সঃ) আমাদেরকে অন্যের ধর্মকে নিয়ে কটুক্তি করতে না করেছেন এবং নিজ ধর্ম ঠিকভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।কিন্তু বাংলাদেশের কিছু কিছু লিখক এবং ব্লগার আমাদের ধর্মকে বিকৃত করে অন্য সম্প্রদায়ের সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে চাইছে । বাংলা একাডেমির নীতিমালা অনুযায়ী- রাষ্ট্র ও ধর্মকে কটাক্ষ করা হয় বইমেলায় এমন কোন বই ছাপানো যাবে না। বইমেলার নীতিমালা ১৩ এর ১৩ অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে- অশ্লীল ও রুচিগর্হিত বই প্রকাশ করলে আইনের সীমা লঙ্গন করা হবে। সেই সঙ্গে আর কোনো সময় সেই স্টলকে বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এ কারণে বইমেলার শুরুতেই বাংলা একাডেমীর ডিজি শামসুজ্জামান খান সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন এবার কোন ধর্মীয় উস্কানিসূচক বই ছাপানো যাবে না। প্রকাশ্য ভাবে বইমেলাতে বিক্রি করা হচ্ছে ইসলাম বিরোধী বই। এবারে বইমেলায় ব-দ্বীপ প্রকাশন’র স্টলে শোভা পাচ্ছে চরম ইসলাম বিরোধী বই । ব দ্বীপ প্রকাশনির ইসলাম বিরোধী কালেকশন গুলো হচ্ছেঃ- ক) বই- জিহাদ : জবরদস্তিমূলক ধর্মান্তকরণ, সাম্রাজ্যবাদ ও দাসত্বের উত্তরাধিকার। লেখক-এম এ খান। খ) বই – ইসলাম ও আধুনিক সভ্যতা। লেখক- শামসুজ্জোহা মানিক গ) বই- ইসলামে নারীর অবস্থান। শামসুজ্জোহা মানিক ঘ) বই- ইসলাম বিতর্ক (প্রবন্ধ সংকলন) – শামসুজ্জোহা মানিক ঙ) বই- মুহাম্মদ, জিহাদ ও ইসলামের সহিংস প্রচার। লেখক-এম এ খান। চ) ধর্ম ও শ্রেনীতত্ত্বের জাতাকলে বাঙালী জাতি ছ) ইসলামের ভূমিকা ও সমাজ উন্নয়নের সমস্যা- শামসুজ্জোহা মানিক * নাম- “ইসলামের ভূমিকা ও সমাজ উন্নয়নে সমস্যা”। বইটির লেখক শামসুজ্জোহা মানিক। বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় রয়েছে মুসলমানদের আল্লাহ, নবী ও ইসলামকে নানান অশ্লীল গালাগালিতে ভরপুর। ১) বইটির ৩২ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- “আল্লাহ্ তো মানুষেরই সৃষ্টি। কাজেই এটা মুহাম্মদের মানস সৃষ্টি। মুহাম্মদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল এই রকম এক সন্ত্রাসী ও স্বেচ্ছাচারী মহাশক্তিমান অলৌকিক সত্তার কল্পনা এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ দাস প্রতিনিধি স্বরূপ তাঁর নিজেকে।” (অধ্যায় : ইসলাম ও নিরঙ্কুশ একত্ববাদ, পৃষ্ঠা: ৩২) ২) বইটির ৩৬ নং পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে- “আল্লাহ্র প্রকৃতিই যদি এমন এক স্বেচ্ছাচারী ও বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন পীড়নবাদী বা ধর্ষকামীর হয় তবে এই আল্লাহ্র প্রকৃতি অনুসরণে মানুষ কোন্ চরিত্র অর্জন করতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।” (অধ্যায়: স্বৈরতন্ত ইসলামের এক অনিবার্যতা, পৃষ্ঠা: ৩৭) ৩) বইটির ৫১ নং পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে- “আমাদের দেশে সমাজ জীবনে নারীর তুলনামূলক অনুপস্থিতি এবং নারীর উপর ধর্ষবাদী পুরুষদের যৌন আগ্রাসন ও ধর্ষণের আধিক্য যে কোনও মানুষের চোখে পড়বে। এটা অবশ্য আমাদের দেশের একক অবস্থা নয়, সমগ্র মুসলিম পৃথিবীর অবস্থাই কম-বেশি এই রকম। (অধ্যায়- ইসলামের বিজয়ে নারীর পরাজয়, পৃষ্ঠা- ৫১) ৪) বইটির ১১০ নং পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে- “মুহাম্মদ নিজ মতবাদ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য কোনও কাজেই পিছপা ছিলেন না এবং তৎকালীন অর্ধসভ্য, দরিদ্র ও মরুময় আরবের মানদণ্ড অনুযায়ী নিজ স্থূল সম্ভোগের ক্ষেত্রেও কম যান নাই। আসলে তিনি ছিলেন অসাধারণ কূট, ধূর্ত ও নির্দয়।” (অধ্যায়: ইসলামের অশুভ ভূমিকা, পৃষ্ঠা-১১০) ৫) বইটির ১১৪ নং পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে- “বিশেষত ইসলাম ধর্ম এক ভয়ংকর সন্ত্রাসী ও ধর্ষকামী বা স্যাডিস্টিক একনায়কী ধর্ম। এই ধর্ষকামী বা স্যাডিস্টিক ধর্মের প্রচণ্ড প্রভাবের ফলে এ দেশে কোনও শুভ শক্তি মাথা তুলে দাড়াতে পারছে না।” অধ্যায়: ইসলামের অশুভ ভূমিকা, পৃষ্ঠা-১১৪)। শামসুজ্জোহা মানিকে ইসলাম বিরোধী বই লিখার অপরাধে গ্রেফতার করা হয় ,শামসুজ্জোহা মানিক গ্রেফতার হওয়ার পর কিছু কিছু হিন্দু ধর্মাবলম্বী তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। উল্লেখ্য শামসুজ্জোহা মানিক জন্মসূত্রে একজন মুসলমান এবং সে নিজ ধর্ম নিয়েই কটাক্ষ করেছিলো। এতে মুসলমানদের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায় এবং ফলস্বরূপ মুসলিম সংখ্যাগুরু রাষ্ট্রের পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেফতার করে। শামসুজ্জোহা মানিকের মুক্তি দাবি করতে। এর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ হাইকোর্টের উকিল রাজেশ পালকে উ্ইম্যান চ্যাপ্টারের সম্পাদক সুপ্রীতি ধরকে সিলেট টুডে’র সাংবাদিক একুশ তফাদারকে এছাড়া রয়েছে অধ্যাপক অনুপম সেন, অধ্যাপক অজয় রায়, সমাজকর্মী নূরজাহান বোস সমাজকর্মী আরমা দত্ত, সমাজকর্মী চন্দন শীল এডভোকেট দীপক ঘোষ। যার যার ধর্ম-বর্ণ যাই হোক ,এমন কি নাস্তিক হোক,সে যদি আমাদের ধর্মকে ,প্রিয় নবী (সঃ) কে ইসলাম বিরোধী কটাক্ষ করে অশ্লীল লেখা , ছবি ,কার্টুন প্রকাশ করে তাহলে দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হয় এবং দেশের ব্লগার হত্যা ,হিংসা-বিদ্বেষ এমনকি মুসলমান জাতি হিসেবে আমাদেরকে বহির্বিশ্বে ছোট করে দেখা হয় ,আশা করি যারা এইসব ধর্ম বিরোধী কাজের সাথে নিয়োজিত সরকার তাদের উপর কঠোর আইন প্রয়োগ করে আমাদের দেশে শান্তি এবং সুনাম অক্ষত রাখবেন ।

নিউজটি শেয়ার করুন

error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ