সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৬ ৩:০৫ অপরাহ্ণ

আত্মত্যাগের ঈদ আজ


আজ (মঙ্গলবার) ঈদ। পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ মানে আনন্দ। আর এই ঈদে আনন্দের সাথে যুক্ত হয় আত্মত্যাগ। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হয়ে ওঠার ঈদ। পরিশুদ্ধ মানুষ হয়ে ওঠার ঈদ।

আজ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরা তাদের অন্যতম এ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করবেন।

ঈদ মানেই আনন্দ। প্রিয়জনের সঙ্গে সে আনন্দ ভাগ করে নিতে অনেকেই ছুটে গেছেন দূর-দূরান্তে। পথের ক্লান্তি ভুলে ছোট-বড় সবারই অধীর অপেক্ষা এখন ঈদের দিনটির জন্য।

ইতিমধ্যে অনেকেরই কোরবানির পশু কেনা সম্পন্ন হয়েছে। কেউ কেউ দরদাম যাচাই করছেন এ-হাট থেকে সে-হাট ঘুরে। শেষ মুহূর্তে পছন্দমতো কোরবানির পশু কিনে ফিরবেন তারা।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও পরের দুই দিন, অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকে ওই দুই দিনও পশু কোরবানি করে থাকেন।

মহান আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) এই দিনে তার ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকেন।

কোরবানির মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের পশুত্বকে পরিহার করা ও হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মঙ্গলবার সকালেই মুসল্লিরা নিকটস্থ ঈদগাহ বা মসজিদে যাবেন ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য।

নামাজের খুতবায় তুলে ধরা হবে কোরবানির তাৎপর্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে আদায় করবেন ঈদের নামাজ। শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন কোলাকুলির মাধ্যমে। নামাজ শেষে অনেকেই যাবেন কবরস্থানে স্বজনের কবর জিয়ারত করতে।

আনন্দের দিনে অশ্রুসিক্ত হয়ে চিরকালের জন্য চলে যাওয়া স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে হাত তুলবেন। নামাজ শেষে আল্লাহতায়ালার উদ্দেশে করা হবে পশু কোরবানি।

নিউজটি শেয়ার করুন

267 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ