আগস্ট ৪, ২০১৮ ১১:০১ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল মৌলভীবাজার


সারা দেশের মতো ৯ দফা দাবী নিয়ে মৌলভীবাজারেও আন্দোলন শুরু করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারাণ ছাত্রছাত্রীরা।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমহনী পয়েন্টে আসতে শুরু করে। তখন সবার মুখেই প্রতিবাদী স্লোগান, গলায় ঝুলানো প্লে-কার্ড। যাতে লেখা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গনা, জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যাবে। এমন সব স্লোগান। এরপর দুপুর ১১ টার দিকে এই আন্দোলন স্লোগানে স্লোগানে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সেই সাথে বন্ধ হয়ে যায় মৌলভীবাজারের সকল সড়কের যানবাহন।
এদিকে সময় যতো গড়াচ্ছে সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলন আরো বাড়তে থাকে। মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এখানে অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে পড়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সব রাস্তায়। সেখানে তারা বিভিন্ন গাড়ির লাইসেন্স দেখা শুরু করে। আবার অনেকে চালককে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়।

এদিকে পরিবহণ শ্রমিকদের ডাকে সারা দেশে চলছে পরিবহণ শ্রমিক ধর্মঘট। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পূর্বে তারা মিছিল করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
তারা শহরের বাইরে অবস্থান করে গাড়ি আটকানো শুরু করছে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী থাকা কোনো গাড়ি শহর অভিমুখে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। সকাল ৯ টা থেকে তারা কুলাউড়া-মৌলভীবাজার সড়কের গোবিন্দবাটি এলাকায়, সিলেট-মৌলভীবাজারের জুগিডর এলাকায়। মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়কের মুকামবাজার এলাকায় গাড়ি আটকিয়ে ধর্মঘট পালন
করতে দেখা যায়।
শহরের বাইরে থেকে গাড়ি না আসায় বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা পায়ে হেটে এসে আন্দোলনে যোগ দেয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছে।
এদিকে আন্দোলনে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য সেখানে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার দুপুরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম ওরফে মীম নিহত হন। বাসচাপায় আহত হন আরও ১৩ জন।
এ ঘটনা কেন্দ্র করে পাঁচ দিন ধরে রাজধানীজুড়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় তারা দোষী পরিবহনকর্মীদের বিচার ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানাচ্ছেন।

এদিকে বুধবার বিকাল ৩টায় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের বার্তা দেশব্যাপী পৌঁছে গেছে। তোমাদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। কাজেই তোমরা অবরোধ তুলে নাও, ক্লাসে ফিরে যাও।
এ আহ্বানের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পুলিশের আইজিপি জাভেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী প্রমুখ বৈঠক করেন।
পরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সারা দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

67 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ