মার্চ ১৩, ২০১৭ ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

মৌলভীবাজার জেলা আ’লীগের বৈঠকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তুমুল বাকযুদ্ধ


কুলাউড়া সংবাদ ঃঃ মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২০ মে’র মধ্যে সম্পন্ন করতে না পারলে আহ্বায়ক কমিটি করা হবে। কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে জেলা নেতৃবৃন্দ ব্যর্থ হলে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করবে। তাছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফি আহমদ সলমানের বহিষ্কারাদেশ তামাদি বলে ঘোষণা করা হয়। ফলে তিনি স্বপদে বহাল থাকছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে রোববার (১২ মার্চ)মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে সরগরম আলোচনা হয়।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবাদুল কাদেরের উপস্থিতিতে এবং কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) আহমদ হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান,  মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদসহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সদস্যবৃন্দ।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, সভার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সরগরম আলোচনা হয়। আলোচনা অনেক ক্ষেত্রে বাকযুদ্ধে রূপ নেয়। মৌলভীবাজার জেলা কমিটি ও কুলাউড়া উপজেলা কমিটি নিয়েই সভার বেশিরভাগ সময় জুড়ে আলোচনা হয়। সভায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় তার মধ্যে ছিলো- মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আগামী ২০ মে’র মধ্যে করার জন্য কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের কাছে জেলা নেতৃবৃন্দ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সভায় মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান শামীম কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বেহাল অবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দীর্ঘ বক্তব্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের বিষয়টি তুলে ধরলে কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, কেন্দ্রে বিষয়টি আবগত আছে।

এছাড়া অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান শামীম কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফি আহমদ সলমানের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ উত্তরে জানান, যেহেতু শফি আহমদ সলমানের বহিষ্কারাদেশ সম্পর্কে কেন্দ্রিয় কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।  বিষয়টি বর্তমানে তামাদি হয়ে গেছে। ফলে শফি আহমদ সলমান স্বপদে বহাল আছেন।

স্থানীয় এমপি আব্দুল মতিন প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান শামীম বলেন, তিনি ৮৬ সালে জাতীয় জাতীয় পার্টি থেকে উপজেলা নির্বাচন করেছেন। ৮৮ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মরহুম আব্দুল জব্বারের বিরোধীতা করেছেন। তাছাড়া সাবেক এমপি সুলতান মো. মনসুর তাকে দলে এনে সভাপতি করেন। কিন্তু তিনি দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এমপি নির্বাচিত হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের কোন পদবীধারী কিনা জানতে চাইলে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন সভাপতি নেই। তাই আগামী সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
দলীয় কোন্দল প্রসঙ্গে নেতৃবৃন্দ বলেন, যদি জেলা আওয়ামী লীগ এব্যাপারে সমাধান করতে না পারলে কেন্দ্রিয় হস্তক্ষেপ করা হবে।
এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফি আহমদ সলমান জানান, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি বিষয়টি উত্তাপন করেন।  জবাবে কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদককে বহিষ্কার করার এখতিয়ার এককভাবে জেলা আওয়ামী লীগের নেই। কুলাউড়া সম্পর্কে আমার সব জানা আছে, সফি আহমদ সলমান আওয়ামী লীগে ছিলেন, আছেন, থাকবেন। কুলাউড়াসহ যে সমস্ত উপজেলা কমিটি এখনও হয় নাই, প্রয়োজনে আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে সম্মেলন সম্পন্ন করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

3810 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ