মার্চ ৯, ২০১৮ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

সিলেট রেলপথে ঘন ঘন ট্রেন দুর্ঘটনা। যাত্রীদের মধ্যে চরম আতংক


এম শাকিল রশীদ চৌধুরী ঃ সিলেট রেল পথে নিরাপদ ট্রেন ভ্রমন সাম্প্রতিককালে ঘন ঘন দুর্ঘটনার কারনে ঝুকিপুর্ন হয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতংক দেখা দিয়েছে। পুরাতন ইঞ্জিন ও বগী নিয়ে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনসহ অন্যান্য ট্রেন প্রায় প্রতিদিন পথিমধ্যে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত বুধবার একইদিনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর পারাবত ট্রেন বিকেলে ও আন্তঃনগর উপবন ট্রেন রাতে পথিমধ্যে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে যাত্রীদের জানমাল রক্ষা পায় বলে জানা গেছে।
জানা যায় সিলেট থেকে বুধবার বিকেল ৩টায় ছেড়ে আসা ঢাকাগামী পারাবত ট্রেন বিকেল ৩-৪০ মিনিটে মাইজগাও রেল ষ্টেশনে পৌছার পর ট্রেনের ইঞ্জিনের বাফারের হুকের সেন্টার পিনে ফাটল দেখা দিলে ট্রেনের চালক যাত্রীবাহী বগীগুলো মাইজগাঁও স্টেশনে ফেলে রেখে শুধুমাত্র ইঞ্জিন নিয়ে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের লোকশেডে পৌছান। পরে লোকোসেডের প্রকৌশলীরা হুকের সেন্টার পিনের ফাটল মেরামত করে দিলে চালক ইঞ্জিন নিয়ে পুনরায় মাইজগাঁও স্টেশনে পৌছে যাত্রীবাহী বগীগুলো নিয়ে ২ ঘন্টা বিলম্বে বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে মাইজগাও ষ্টেশন ত্যাগ করেন।
অপরদিকে একইদিন রাত ১০ টায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপবন ট্রেন পথিমধ্যে রাত ১২টার দিকে কুলাউড়া ছেড়ে সমসেরনগর যাওয়ার পথে মনু ব্রীজ পার হয়ে চলন্ত অবস্থায় উক্ত ট্রেনের ১ম শ্রেনীর এক বগীর চাকার স্প্রিীং ভেঙ্গে গেলে চালক ঝুকি নিয়ে ট্রেনটি পরবর্তী সমসেরনগর ষ্টেশনে নিয়ে যান। পরে ট্রেনের উক্ত বিকল বগী সমসেরনগর ষ্টেশনে ফেলে রেখে অপর বগীগুলো নিয়ে চালক প্রায় ৩ ঘন্টা পর রাত ৩টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। উপবন ট্রেনের যাত্রী কুলাউড়া পৌর কাউন্সিলর মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী খোকন জানান মনু রেল ব্রীজ পার হওয়ার পর বিকট শব্দে ট্রেনের একটি বগির চাকার পাশের স্প্রিং ভেঙ্গে নাট বল্টু খুলে পড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত বগিটির একটি চাকা লাইনচ্যুত অবস্থায় ট্রেনের চালক ট্রেনটি শমসেরনগর স্টেশন নিয়ে যান। এসময় ব্যাপক ঝাঁকুনি শুরু হলে যাত্রীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। একই দিনের উভয় ঘটনায় পথিমধ্যে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

উল্লেখ্য চলতি বছরের শুরুতে ১লা ফেব্রুয়ারী সিলেট থেকে বিকেলে ছেড়ে আসা আখাউড়াগামী মালবাহী ট্রেন কুশিয়ারা ব্রীজ পার হয়ে ফেঞ্চগঞ্জ রেল স্টেশন প্রবেশের পথে ট্রেনের একটি বগির ৪ চাকা লাইনচ্যুত হয়ে পড়লে সিলেটের সাথে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। সন্ধার পর কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন ষ্টেশন থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌছে রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত করে।
একই মাসের ২৩ ফেব্রুয়ারী রাতে সিলেট থেকে রাত ১০টায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপিসহ অর্ধ সহ¯্রাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন পথিমধ্যে রাত ১টায় সাতগাও ষ্টেশনের নিকটে দুর্ঘটনা কবলিত হয়। এতে ট্রেনের ৭টি বগী লাইনচ্যুত হয়ে সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে আখাউড়া ও কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন ষ্টেশন থেকে পৃথক পৃথক দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারী বিকেল ৪টায় রেল লাইন পুনঃস্থাপিত করে।
এমনিভাবে একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনার ফলে ট্রেনযাত্রীরা গন্তব্যে পৌছার পুর্বে দিনে ও রাত্রিকালে পথিমধ্যে আটকা পড়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নিরাপদ ট্রেন ভ্রমনের ভুক্তভোগীরা ঘন ঘন ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য সিলেট রেলপথে পুরাতন ইঞ্জিন ও বগী ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম দায়িত্বহীনতাসহ রেল লাইনের যথাযথ সংস্কার কাজ না করাকে দায়ী করছেন। এ ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষ অবহেলিত সিলেট রেলপথে ট্রেন দুর্ঘটনার কবল থেকে যাত্রীদের জানমাল রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে নিরাপদ ভ্রমনের নিশ্চয়তা প্রদান করবেন বলে ভুক্তভোগীরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

733 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ