অক্টোবর ২০, ২০১৬ ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

সংবাদপত্রের চাইতে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা জরুরি : প্রধানমন্ত্রী


সংবাদপত্রের মালিকেরা সম্পাদক হওয়ার কারণে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার চাইতে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতার চেয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা বেশি জরুরি। কারণ দেখা যাচ্ছে, মালিক-সম্পাদক প্রায়ই একই ব্যক্তি হয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে চাইলেই সাংবাদিকেরা সবকিছু করতে পারছেন না। তাই সাংবাদিকদের স্বাধীনতাই বেশি প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ৩১তলা বিশিষ্ট ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্স’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছি। গণমাধ্যমে এখন অনলাইনের সংখ্যাই বেশি। কাগজের পাঠক পড়ে যাচ্ছে। তারপরও আমাদের যাদের অভ্যাস হয়ে গেছে, সকালে পত্রিকা হাতে না পেলে মনটাই খারাপ হয়ে। এককাপ চা, আর পত্রিকা সকালের রুটিন হয়ে গেছে। আর এখনকার ছেলে-মেয়েরা তো ল্যাপটপ খুলে বসে। সেটা আবার ভিন্ন বাস্তবতা।’

দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন- এত উন্নয়ন, ম্যাজিকটা কী? আসলে কোনো ম্যাজিক নয়। দেশকে ভালোবাসি, দেশের মানুষকে ভালোবাসি। একে পুঁজি করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

বিএনপি-জামায়াত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেকে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় আনতে চায়। যারা বাংলাদেশের জন্ম চায়নি। যারা উন্নয়ন চায় না, তারা ক্ষমতায় আসলে কীভাবে এদেশের উন্নয়ন হবে?

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই, এমন সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন- গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। স্বাধীনতা যদি না থাকত, তাহলে পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন ও টক শোতে কীভাবে এত এত লেখা ও সমালোচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা আছে। তাদের সেই নীতিমালা মেনে চলতে হবে। শুধু স্বাধীনতা ভোগ করলেই চলবে না, তাদেরও দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। এ ব্যাপার সচেতন হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে ১৮টি আইন ও বিধি করা হয়েছে। দেশে সাতশ’র বেশি পত্রিকা ও ২৪টি টেলিভিশন চ্যানেল আছে। আরও ৪৪টি টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য আবেদন পড়ে আছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সারওয়ার।

উল্লেখ্য, প্রেস ক্লাবের বর্তমান কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় ভবনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। গত রমজানে প্রেসক্লাবের এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী নতুন এ ভবনটি নির্মাণের ঘোষণা দেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের পুরনো ছোট ভবনটি ভেঙে নতুন ওই ৩১ তলাবিশিষ্ট ভবন করা হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-সম্পন্ন এ ভবনটিতে বড় বড় কনফারেন্স হল, ডরমিটরি, সুইমিংপুল, সেমিনার কক্ষ, সিনেপ্লেক্স, মিডিয়া মিউজিয়াম, ডিজিটাল লাইব্রেরি, মিডিয়া হাউস, আইটি সেল, সবুজ বাগান, বিদেশি মিডিয়া অফিস, আবাসিক হোটেল, আধুনিক রেস্টুরেন্ট, ভিআইপি লাউঞ্জ, ক্যান্টিন ও সাংবাদিক লাউঞ্জসহ থাকবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। এছাড়া ভবনের ছাদে থাকবে অত্যাধুনিক হ্যালিপ্যাড।

নিউজটি শেয়ার করুন

166 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ