অক্টোবর ২১, ২০১৬ ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

রাত পোহালেই সম্মেলন


দিবস নয়, ঘণ্টা ধরে প্রহর গুনছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। রাত পোহালেই সম্মেলন। ইতোমধ্যে সম্মেলনের সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন। শনিবার সকালেই পর্দা উঠবে সম্মেলনের। দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ সম্মেলনকে ঘিরে ঈদ আনন্দ বইছে আওয়ামী নেতাকর্মীদের মাঝে।

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনে আগত অতিথির জন্য প্যান্ডেলের ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে ৪০ হাজার আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অতিথিদের জন্য ১০০ ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, ২০টি টি-স্টলের ব্যবস্থা থাকছে। প্যান্ডেল ও এর আশপাশে সুশৃঙ্খলভাবে সম্মেলন উপভোগের জন্য ১৬টি বড় পর্দার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও মঞ্চে থাকছে বিরাট থ্রি-জি পর্দা।
bd-pratidin1
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিশুপার্ক সংলগ্ন প্রবেশপথ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন প্রবেশপথ দিয়ে কূটনীতিক ও বিদেশি মেহমানরা প্রবেশ করবেন।

এছাড়া রমনা কালীমন্দির, রাজু ভাস্কর্য ও চারুকলা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন প্রবেশপথ দিয়ে সাধারণ ডেলিগেট, আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি ও সাংবাদিকরা ঢুকবেন। এ সময় সঙ্গে মোবাইল ফোনসহ কোনো ধরনের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বহন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক এ সম্মেলনে ১১টি দেশের প্রায় অর্ধশত বিদেশি অতিথি অংশ নেবেন। বিদেশি অতিথিরা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ আসতে শুরু করেছেন। সম্মেলন অংশ নিতে সারাদেশ থেকে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরাও ঢাকায় আসছেন।

এদিকে, সম্মেলন উপলক্ষে দলীয় ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো রাজধানী। প্রধান প্রধান সড়ক এবং পয়েন্টগুলোতে শোভা পাচ্ছে আলোক সজ্জা। সম্মেলনের থিমে সেজেছে গোটা দেশও। সাজ সাজ রব উঠেছে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে সম্মেলন ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। এসএসএফ-এর নির্দেশনায় প্রায় দশ হাজার সোয়াদ ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে।

এবারের সম্মেলনে নানা চমক থাকলেও গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ চমক আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গঠনতন্ত্রের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক পদ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকারের বিষয়টি নির্ধারিত হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের অংশগ্রহণও এবারের সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারের উত্তারাধিকারের বিষয়টিও অনেকটা নির্ধারিত হবে বলে অনেকে মনে করছেন। এছাড়া সামনের জাতীয় নির্বাচন এবং ভিশন ২০৪১- নিয়ে সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে বিশেষ বার্তা থাকবে বলেও মনে করছেন অনেকে।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন  হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় সংগঠনের নাম ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরবর্তীতে পরিবেশ বিবেচনায় ‘আওয়ামী লীগ’ নামে সংগঠনটি কার্যক্রম শুরু করে।

১৯৫২ সালের ‘মায়ের ভাষা বাংলা’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হয়েছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট পাকিস্তানের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছিল। ’৬২ সালে গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ’৬৬ সালের ৬-দফার আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নবউদ্যামে সংগঠিত হয়। সেই থেকে আজও দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। এবার ২০তম কাউন্সিলেও শেখ হাসিনাই আবার সভাপতির দায়িত্ব পাচ্ছেন, যা অনেকটাই নিশ্চিত।

সম্মেলন প্রসঙ্গে কথা হয় সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে।  তিনি বলেন, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঐতিহাসিক এ সম্মেলন নিয়ে অপেক্ষার প্রহর কাটছে আর কয়েক ঘণ্টা পরেই। এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে আগামীতে দল পরিচালনায় শক্তিশালী নেতৃত্ব উপহার দেবে আওয়ামী লীগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

238 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ