ডিসেম্বর ৪, ২০১৬ ৮:২২ অপরাহ্ণ

রাগীব আলীর বিচার শুরু


সিলেটের বিতর্কিত শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে সকরকারের একহাজার কোটি টিকা আত্মসাতের মামলায় বিচার কাজ শুরু হয়েছে।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরুর আদালতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়।

একইদিনে ভূমি মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় ৬ জনের পুনঃস্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এসময় রাগীব ও তাঁর ছেলেকে আদালতে হাজির করা হয়।

সিলেট মহানগর আদালতের এপিপি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান জানান, প্রতারণার মাধ্যমে তারাপুর চা বাগানের ভূমি ও সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় রাগীব আলীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি মামলায় ৬ জনের পুণঃ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এতে পুনঃ সাক্ষ্য দেন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক ফয়সল আলম ও সিনিয়র সহকারী সচিব ইমদাদুল হকসহ ৬ জন। এ নিয়ে এ মামলায় ১৪ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের পুণঃ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের অনুপস্থিতিতেই এই মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার কাজ শুরু হয়।

এর আগে, গত ১০ জুলাই আদালতে দুটি মামলার অভিযোগপত্র দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতি ও প্রতারণা করে সিলেটের দুই হাজার কোটি টাকার দেবোত্তোর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান দখলের অভিযোগে দুটি মামলায় গত ১০ আগস্ট রাগীব আলীসসহ আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর সপরিবারে ভারত পালিয়ে যান রাগীব আলী। পরে ২৪ নভেম্বর ভারতে গ্রেপ্তারের পর রাগীব আলীকে দেশে এনে কারাগারে পাঠানো হয়।

এছাড়া ১২ নভেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ।

তারাপুরসংক্রান্ত দুটি মামলার নথি থেকে জানা যায়, সিলেটের পাঠানুটুলা এলাকার দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা-বাগান পুরোটাই । ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে ৪২২ দশমিক ৯৬ একরের বাগানটির দখল নেন রাগীব আলী।

এ ঘটনার দায়েরকৃত দুটি মামলায় গত ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান। অভিযোগপত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির ঘটনায় রাগীব আলী ও ছেলে আবদুল হাইকে আসামি করা হয়।

আর প্রতারণার অপর মামলায় রাগীব আলী, তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্ত, রাগীব আলীর আত্মীয় মৌলভীবাজারের রাজনগরের বাসিন্দা দেওয়ান মোস্তাক মজিদ, রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাই, জামাতা আবদুল কাদির ও মেয়ে রুজিনা কাদিরকে আসামি করা হয়।

এই মামলায় পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে আদালত। অপরদিকে দেবোত্তোর সম্পত্তির কথিত সেবায়েত দেওয়ান মোস্তাক মজিদ ও রাগীব আলী, তাঁরপুত্র আব্দুল হাইয়ের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির সুশেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে হাই কোর্টের আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ তারাপুর চা-বাগান রাগীব আলীর দখল করাকে প্রতারণামূলক আখ্যা দিয়ে পুরো বাগান সেবায়েত পঙ্কজগুপ্তকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এই নির্দেশনার পর গত ১৫ মে চা-বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়া ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। ২৬ বছর পর রাগীব আলীর দখলমুক্ত হয় তারাপুর চা বাগান। তবে এখনো বাগান দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করা যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

500 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ