জুলাই ২৯, ২০১৬ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

মানুষ হত্যা করে জান্নাতে যাওয়া যায় না : আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী


কুলাউড়া সংবাদ :: হাজারো আলেম, মাথায় সফেদ পাগড়ী। এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। বিশাল প্রাপ্তির আনন্দ দীপ্তি সবার চোখে-মুখে। খুশিতে-আবেগে প্রিয় মুরশিদের মাযার যিয়ারতকালে, আবেগঘন বক্তৃতায় কেঁদেছেন, কাঁদিয়েছেন অনেকেই। এ দৃশ্য ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮জুলাই ২০১৬) ফুলতলী ছাহেব বাড়িতে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলিমে দ্বীন, উস্তাযুল উলামা শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলীর নিকট থেকে ইলমে হাদীসের সনদ ও পাগড়ী গ্রহণের লক্ষ্যে গতকাল আলেম-উলামার পদভারে মুখরিত হয়েছিল ফুলতলী। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে দশটায় আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর মাযার যিয়ারতের মাধ্যমে সনদ বিতরণ মাহফিল শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাহফিলের মধ্যমণি, সনদ গ্রহণকারী উলামায়ে কিরামের মহান উস্তায আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু বাতিলগোষ্ঠী মানুষ হত্যা করে জান্নাতে যেতে চায়। এরা খারিজীদের উত্তরসূরী। বাতিল ফিরকা খারিজীরা গুপ্ত হত্যা শুরু করেছিল। তারা নামাযরত অবস্থায় হযরত যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রা.) কে হত্যা করেছিল। তারা মনে করে বিরোধীদের হত্যা করলেই জান্নাত পাওয়া যাবে। এটা ইসলাম এবং দ্বীনের পথ নয়।  আমরা সে পথে নই। যারা প্রকৃত ইসলামী আদর্শ লালন করে তারা মানুষ হত্যা করতে পারে না। কারণ মানুষ হত্যা করে জান্নাতে যাওয়া যায় না।

sssss

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ও বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা নজমুল হুদা খানের পরিচালনায় মাহফিলে তিনি আরো বলেন- আউলিয়ায়ে কিরাম সারাজীবন শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। আমরা তাদের উত্তরসূরি। তাদের শিক্ষাই আমরা প্রচার করব। আমাদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের শিক্ষাকে সমাজে তুলে ধরতে হবে, সমাজকে বাতিল আকীদা-বিশ্বাস থেকে দূরে রাখতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইছামতি কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ শায়খুল হাদীস আল্লামা হবিবুর রহমান বলেন- ইলমে হাদীস একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। তিনি হাদীস শরীফের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন- যারা হাদীস শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং শিক্ষা দেন তারা রাসূলে পাক (সা.) এর খলীফা বা প্রতিনিধি। তিনি বলেন, হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী আমাদের ইলমে কিরাতের ইমাম, তরীকতের ইমাম, হাদীসেরও ইমাম। তাঁর মতো দ্বীনের এমন খাদিম বিরল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক আল্লামা কবি রূহুল আমীন খান, বলেন, ফুলতলী দরবারে ইলমে কিরাত, ইলমে হাদীস ও ইলমে তরীকতের সমন্বয় রয়েছে। এখানে এ তিন সিলসিলা ধারাবাহিকভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত যুক্ত। তিনি বলেন, আল কুরআনের নির্দেশ হলো তোমরা আল্লাহর রঙ্গে রঙ্গীন হও। আমরা কিভাবে আল্লাহর রঙ্গে রঙ্গীন হবো? এর জবাব হলো, হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর আখলাক ধারণ করেছেন। তাঁর অনুসরণ করলেই আল্লাহর রঙ্গে রঙ্গীন হওয়া যাবে। যারা ইলমে হাদীসের সনদ নিচ্ছেন আল্লাহর রাসূলের শিক্ষা ও আদর্শের সাথে তাদের নিবিড় সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।

index

মাওলানা নজমুদ্দীন চৌধুরী বলেন, আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী একজন প্রচার বিমুখ মানুষ। শৈশবে হযরত বদরপুরী (র.) তাঁর মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন তিনি ওলী হবেন। বদরপুরী (র.) এর কথা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তিনি সারাজীবন এতীম-অনাথ, গরীব-অসহায় মানুষের খিদমত করেছেন। অসহায় মানুষের প্রতি দরদ তাঁর জন্মজাত। তিনি বহুবার গরীব মানুষকে নিজের পরনের জামা দান করেছেন। এমনকি বিছানার চাদর, পরনের লুঙ্গি পর্যন্ত দান করেছেন। তাঁর মতো এমন মানুষের তুলনা হয় না। অসহায় দুঃস্থ মানবতার  খিদমতের পাশাপাশি শত ব্যস্ততা সত্তে¡ও তিনি ইলমে হাদীসের দারসও দিয়েছেন। আজকে যারা তাঁর নিকট থেকে পাগড়ী নিচ্ছেন তারা অত্যন্ত ভাগ্যবান।

মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুফতী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, সোবহানীঘাট হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা কমরুদ্দীন চৌধুরী ও বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী।

মাহফিলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, মুহাদ্দিস ও শিক্ষকমÐলীসহ কামিল উত্তীর্ণ হাজারো উলামায়ে কেরামকে সনদ ও পাগড়ী প্রদান করা হয় যারা ইতোপূর্বে হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৗধুরী ফুলতলীর নিকট ইলমে হাদীসের দারস নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন, মাওলানা শিহাব উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, হাফিয মাওলানা ফখরুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, মাওলানা আব্দুল মান্নান আইনপুরী, মাওলানা শুয়াইবুর রহমান, সৎপুর দারুল হাদীস কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা শফিকুর রহমান, বুরাইয়া কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল কাদির, সোনাতলা সিরাজুল ইসলাম সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাফিজুর রহমান, ইকড়ছই সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ছমির উদ্দীন, রাখালগন্্জ সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হবিবুর রহমান, আনজুমানে আল ইসলাহর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা একেএম মনোওর আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী, হবিগনজ দারুচ্ছুন্নাত আলিয়া মাদরাসার মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আহমদ, সিলেট সরকারী আলিয়া মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল মোছাব্বির, মাথিউরা সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল আলিম, শ্রীমঙ্গল আলিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহবুব আহমদ সালেহ, সৎপুর দারুল হাদীস কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু জাফর মোহাম্মদ নুমান, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর রহীম, জকিগন্্জ সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল ইসলাম, ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা এখলাসুর রহমান, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা শামসুল ইসলাম, ছাতক জালালিয়া আলিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল আহাদ, সৎপুর দারুল হাদীস কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ছালিক আহমদ, সুন্দাদিলের মাওলানা কাজী আলাউদ্দিন আহমদ, জালালপুর জালালিয়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জ.উ.ম আব্দুল মুনঈম, হুলিয়ারপাড়া সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, বুরাইয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুর রহমান প্রমুখ।

মাহফিল উপলক্ষে ‘গুলশানে ইয়াকূবী’ নামে একটি স্মারকও প্রকাশিত হয়।    সুত্রঃ উত্তরপূর্ব

নিউজটি শেয়ার করুন

692 বার মোট পড়া হয়েছে সংবাদটি
error: আপনি কি খারাপ লোক ? কপি করছেন কেন ?? হাহাহ